এইচ এস সি বাংলা ১ম পত্র আঠারো বছর বয়স সুকান্ত ভট্টাচার্য

 

 আঠারো বছর বয়স

সুকান্ত ভট্টাচার্য

কবি-পরিচিতি 




সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।  তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ার উনশিয়া গ্রামে। তাঁর পিতার নাম নিবারণচন্দ্র ভট্টাচার্য ও মায়ের নাম সুনীতি দেবী।

সুকান্ত ভট্টাচার্য ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তিনি ছিলেন মার্কসবাদী চিন্তাধারায় বিশ্বাসী ও প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী একজন তরুণ কবি। সে-সময়ের দৈনিক পত্রিকা ‘স্বাধীনতা’র কিশোরসভা অংশের প্রতিষ্ঠাতা ও আজীবন সম্পাদক ছিলেন। তেতাল্লিশের মন্বন্তর, ফ্যাসিবাদী আগ্রাসন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রভৃতির বিরুদ্ধে তিনি কলম ধরেছিলেন। 

তাঁর কবিতায় উঠে এসেছে যাবতীয় অনাচার, বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিবাদ। দরিদ্র ও নির্যাতিত মানুষের পক্ষে কথা বলার জন্য তিনি কবিতাকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। ছিন্নভিন্ন মানুষ, যারা অভাব-অনটন, রোগ-শোকে ধুঁকে বুকের মাত্র ক’খানা হাড় নিয়ে বেঁচে আছে অদম্য বাসনায়- সুকান্ত সেইসব গণমানুষের বন্ধু।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর কবিতা স্বাধীনতাকামী মানুষের মনে সাহস ও উদ্দীপনা জুগিয়েছে। সুকান্ত ভট্টাচার্য১৯৪৭ সালের ১৩ মে যজ্ক্ষায়  আক্রান্ত হয়ে মাত্র একুশ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।


তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ

কাব্যগ্রন্থ : ছাড়পত্র (১৯৪৭), ঘুম নেই (১৯৫০), পূর্বাভাস (১৯৫০);

ছড়া : মিঠেকড়া (১৯৫২),

গীতিনাট্য : অভিযান (১৯৫৩), সূর্য-প্রণাম (১৯৫৩);

সংগীত : গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫);

গল্পগ্রন্থ : হরতাল (১৯৬২)। 


ভূমিকা

‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত ‘ছাড়পত্র’ নামক কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত। এ কবিতায় কবি নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে বয়ঃসন্ধিকালের বৈশিষ্ট্যকে এবং আঠারো বছর বয়সের বিভিন্ন গুণাবলি নিয়ে আলোচনা করেছেন। 

উদ্দেশ্য

সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি পড়ার পর তুমি ---

  • কবিতার মূলভাবটি বুঝে লিখতে পারবে। 
  • আঠারো বছর বয়সী তরুণদের মানসিক শক্তি ও চেতনাগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোচনা করতে পারবে। 
  • ‘এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে’। -কবির এই প্রত্যাশার যৌক্তিকতা বিচার করতে পারবে। 


মূলপাঠ

আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ

স্পর্ধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি,

আঠারো বছর বয়সেই অহরহ

বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি।

আঠারো বছর বয়সের নেই ভয়

পদাঘাতে চায় ভাঙতে পাথর বাধা,

এ বয়সে কেউ মাথা নোয়াবার নয়-

আঠারো বছর বয়স জানে না কাঁদা।

এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য

বাষ্পের বেগে স্টিমারের মতো চলে,

প্রাণ দেওয়া-নেওয়া ঝুলিটা থাকে না শূন্য

সঁপে আত্মাকে শপথের কোলাহলে।

আঠারো বছর বয়স ভয়ংকর

তাজা তাজা প্রাণে অসহ্য যন্ত্রণা,

এ বয়সে প্রাণ তীব্র আর প্রখর

এ বয়সে কানে আসে কত মন্ত্রণা।

আঠারো বছর বয়স যে দুর্বার

পথে প্রান্তরে ছোটায় বহু তুফান,

দুর্যোগে হাল ঠিকমতো রাখা ভার

ক্ষত-বিক্ষত হয় সহস্য প্রাণ।

আঠারো বছর বয়সে আঘাত আসে

অবিশ্রান্ত; একে একে হয় জড়ো,

এ বয়স কালো লক্ষ দীর্ঘশ্বাসে

এ বয়স কাঁপে বেদনায় থরোথরো।

তবু আঠারোর শুনেছি জয়ধ্বনি,

এ বয়স বাঁচে দুর্যোগে আর ঝড়ে,

বিপদের মুখে এ বয়স অগ্রণী

এ বয়স তবু নতুন কিছু তো করে।

এ বয়স জেনো ভীরু, কাপুরুষ নয়

পথ চলতে এ বয়স যায় না থেমে

এ বয়সে তাই নেই কোনো সংশয়-

এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে \  

শব্দের অর্থ ও টীকা 

আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ-- এ বয়স মানবজীবনের এক উত্তরণকালীন পর্যায়। কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পণ করে মানুষ এ বয়সে। অন্যদের ওপর নির্ভরশীলতা পরিহার করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিতে হয় তাকে। এদিন থেকে তাকে এক কঠিন সময়ের দুঃসহ অবস্থায় পড়তে হয়। 

আঠারো বছর বয়স জানে না কাঁদা-- যৌবনে পদার্পণ করে এ বয়সে মানুষ আত্মপ্রত্যয়ী হয়। জীবনের মুখোমুখি দাঁড়ায় স্বাধীনভাবে। শৈশব-কৈশোরের পরনির্ভরতার দিনগুলোতে যে কান্না ছিল এ বয়সের স্বভাব-বৈশিষ্ট্য তাকে সচেতনভাবে মুছে ফেলতে উদ্যোগী হয়। এ বয়সে প্রাণ তীব্র আর প্রখর- অনুভ‚তির তীব্রতা ও সুগভীর সংবেদনশীলতা এ বয়সেই মানুষের জীবনে বিশেষ তীব্র হয়ে দেখা দেয় এবং মনোজগতে তার প্রতিক্রিয়াও হয় গভীর। 

এ বয়সে কানে আসে কত মন্ত্রণা-- ভালো-মন্দ, ইতিবাচক-নেতিবাচক নানা তত্ত¡, মতবাদ, ভাবধারার সঙ্গে পরিচিত হতে শুরু করে এই বয়সের তরুণেরা। 

এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য-- দেশ, জাতি ও মানবতার জন্য যুগে যুগে এ বয়সের মানুষই এগিয়ে গেছে সবচেয়ে বেশি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দাঁড়িয়েছে সমস্ত বিপদ মোকাবেলায়। প্রাণ দিয়েছে অজানাকে জানবার জন্য, দেশ ও জনগণের মুক্তি ও কল্যাণের সংগ্রামে। তাই এ বয়স সুন্দর, শুভ ও কল্যাণের জন্য রক্তমূল্য দিতে জানে। 

এ বয়স কালো লক্ষ দীর্ঘশ্বাসে-- সচেতন ও সচেষ্ট হয়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে জীবন

পরিচালনা করতে না পারার অজস্র ব্যর্থতার দীর্ঘশ্বাসে এ বয়স নেতিবাচক কালো অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে। এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে-- আঠারো বছর বয়স বহু ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যে চিহ্নিত। জড় নিশ্চল প্রথাবদ্ধ জীবনকে পেছনে ফেলে নতুন জীবন রচনার স্বপ্ন, কল্যাণ ও সেবাব্রত, উদ্দীপনা, সাহসিকতা, চলার দুর্বার গতি এসবই আঠারো বছর বয়সের বৈশিষ্ট্য। কবি প্রার্থনা করেন, এসব বৈশিষ্ট্য যেন জাতীয় জীবনে চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়ায়। 

তাজা তাজা প্রাণে-অসহ্য যন্ত্রণা-- চারপাশে অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ, পীড়ন, সামাজিক বৈষম্য ও ভেদাভেদ ইত্যাদি দেখে প্রাণবন্ত তরুণেরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। 

দুর্যোগে হাল ঠিক মতো রাখা ভার-- জীবনের এই সন্ধিক্ষণে শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, রাজনৈতিকনানা জটিলতাকে অতিক্রম করতে হয়। এই সময় সচেতন ও সচেষ্টভাবে নিজেকে পরিচালনা করতে না পারলে পদস্খলন হতে পারে। জীবনে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

 বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি-- নানা দুঃসাহসী স্বপ্ন, কল্পনা ও উদ্যোগ এ বয়সের তরুণদের মনকে ঘিরে ধরে।  পথ চলতে এ বয়স যায় না থেমে-- এ বয়স দেহ ও মনের স্থবিরতা, নিশ্চলতা, জরাজীর্ণতাকে অতিক্রম করে দুর্বার গতিতে। প্রগতি ও অগ্রগতির পথে নিরন্তর ধাবমানতাই এ বয়সের বৈশিষ্ট্য। 

সঁপে আত্মাকে শপথের কোলাহলে-- তারুণ্য স্বপ্ন দেখে নতুন জীবনের, নব নব অগ্রগতি সাধনের। তাই সেইসব স্বপ্ন বাস্তবায়নে, নিত্য-নতুন করণীয় সম্পাদনের জন্য নব নব শপথে বলীয়ান হয়ে তরুণ-প্রাণ এগিয়ে যায় দৃঢ় পদক্ষেপে। 

স্পর্ধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি-- অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা পরিহার করে মাথা উঁচু করে স্বাধীনভাবে চলার ঝুঁকি এ বয়সেই মানুষ নিয়ে থাকে।

সারসংক্ষেপ

‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য বয়ঃসন্ধিকালের বৈশিষ্ট্যকে নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে তুলে ধরেছেন। আঠারো বছর বয়সে পদার্পণের মধ্য দিয়ে মানুষ যৌবনপ্রাপ্ত হয়। কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পণের এ বয়সটি উত্তেজনার, প্রবল আবেগ ও উচ্ছাসে জীবনে ঝুঁকি নেবার উপযোগী। অদম্য দুঃসাহসে সকল বাধা বিপদ অতিক্রম করে এরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার জন্য প্রস্তুত। আত্মত্যাগের মহান মন্ত্রে উজ্জীবিত হওয়া এ বয়সের ধর্ম।

অদম্য মনোবল, অপ্রতিরোধ্য গতিতে তরুণ সমাজ দেশ ও জাতির প্রয়োজনে অকাতরে প্রাণ দিতে পারে। আমাদের কাছে তাই তারুণ্যই জীবন, তারুণ্যই কাক্সিক্ষত। কারণ সৃষ্টিধর্মী ও কল্যাণকর সব কিছু তরুণদেরই দান। তাই কবি প্রত্যাশা করেছেন নানা সমস্যাপীড়িত এ দেশে তারুণ্য ও যৌবনশক্তি যেন জাতীয় জীবনের চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়ায়।

এ বয়সে নিজের চিন্তার চেয়ে সমাজের চিন্তা প্রবল, সমাজের উন্নতির জন্য প্রতিবাদী হয়ে ওঠে এ বয়সীরা, আবার সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধাচরণ করে এ বয়সেই। কবির আহ্বান , এ দেশের মাটি ও মানুষের চেতনা আঠারোকে ধারণ করুক। 

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?

ক. সরবৃত্ত        খ. মাত্রাবৃত্ত

গ. অক্ষরবৃত্ত    ঘ. স্বরমাত্রিক

২. আঠারো বছর বয়স কিসের প্রতীক?

ক. বিপদের        খ. যৌবনের

গ. বেদনার        ঘ. নিশ্চলতার

নিচের উদ্দীপকটি পড়  এবং ৩ ও ৪নং প্রশ্নের উত্তর দাও  :

স্বাধীনতার প্রত্যাশায় দেশে চলছে মুক্তিযুদ্ধ। আর এ সময় দেশ আশা করে সমস্ত তরুণের আঠারো বছর তার বুকে নেমে আসুক ।

৩. উদ্দীপকের সঙ্গে নিচের কোন চরণের সাদৃশ্য রয়েছে?

ক. এ বয়সে কেউ মাথা নোয়াবার নয় খ. বাষ্পের বেগে স্টিমারের মতো চলে

গ. এ বয়স নতুন কিছু করে ঘ. এ বয়সে তাই নেই কোনো সংশয়

৪. উদ্দীপক ও ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় ফুটে উঠেছেÑ

ক. তারুণ্যের উদ্দীপনা খ. কল্যাণ চেতনা

গ. ব্যর্থতার দীর্ঘশ্বাস ঘ. সৃষ্টিশীলতা

৫. আঠারো বছর বয়স-

i. দুঃসহ

ii. নির্ভয়

iii. দুর্বার

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i                  খ. ii

গ. iii                ঘ. i, ii ও iii

৬. ‘এ বয়সে কানে আসে কত মন্ত্রণা’ বলতে তারুণ্যের যে বিষয়টিকে বোঝানো হয়েছে--

ক. ইতি- নেতি নানা ভাবনাকে     খ. দুর্বার গতিকে

গ. সেবাব্রতকে                             ঘ. নির্ভীকতাকে

নিচের উদ্দীপকটি পড়  এবং ৭ ও ৮ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :

কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার দুটি চরণ এ রকম-

‘আমি দুর্বার

আমি ভেঙে করি সব চুরমার।’

৭. উদ্দীপকের কবি কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে আপনার পঠিত কোন কবির সাদৃশ্য রয়েছে?

ক. আল মাহমুদ               খ. সুফিয়া কামাল

গ. সুকান্ত ভট্টাচার্য            ঘ. বিষ্ণু দে

৮. উদ্দীপকের কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও সুকান্ত ভট্টাচার্যের রচনার বৈশিষ্ট্য হচ্ছেÑ

ক. জন্মভূমি প্রীতি            খ. নাগরিক জীবনবোধ

গ. সাহসী অভিযাত্রা          ঘ. অন্যায়ের বিরুদ্ধে দ্রোহ

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন উত্তর

১. খ     ২. খ      ৩. ক      ৪. ক     ৫. ঘ       ৬. ক     ৭. গ      ৮. গ  

সৃজনশীল প্রশ্ন 

 মোরা ঝঞ্ঝার মতো উদ্দাম

 মোরা ঝরনার মতো চঞ্চল

 মোরা বিধাতার মতো নির্ভয়

 মোরা প্রকৃতির মতো উচ্ছল

 মোরা আকাশের মতো বাঁধাহীন

 মোরা মরু সঞ্চারী বেদুঈন।

ক. ‘রক্তদান’ কী কাজ?

খ. ‘শপথের কোলাহল’ বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ? আলোচনা কর।

ঘ. “উদ্দীপকে ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার মর্মবাণী প্রকাশিত হয়েছে।” মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর। 

সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর 

ক.

রক্তদান পুণ্যের কাজ।

খ.

‘শপথের কোলাহল’ শব্দগুচ্ছ দ্বারা মানব জীবনে প্রতিজ্ঞার গাঢ়তাকে বোঝানো হয়েছে। আঠারো বছর বয়স মিথ্যা ও অপশক্তির সামনে নির্ভীক চিত্তে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু যারা ভীরু তারা লক্ষ্য নির্দিষ্ট করে আবার পিছু হটে যায়। আঠারো বছর বয়সের তারুণ্য একবার যে লক্ষ্য নির্দিষ্ট করে তারা সে উদ্দেশ্য কখনোই বিসর্জন দেয় না।

দুরন্ত শক্তি আর দুর্বার সাহস নিয়ে সে তার লক্ষ্য বাস্তবায়নে সর্বদা উদগ্রীব থাকে। ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় ‘শপথের কোলাহল’ বলতে কবি তারুণ্যের এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের দুর্বার মানসিকতাকে বুঝিয়েছেন।

গ.

উদ্দীপকের সঙ্গে ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার নবীনদের অদম্য প্রাণশক্তি আর তরুণ চিত্তের দুর্বার গতির দিক থেকে সাদৃশ্য রয়েছে।

আঠারো বছর বয়স অদম্য প্রাণশক্তি আর উদ্দীপনায় ভরা থাকে। নানা দুঃসাহসী স্বপ্ন, কল্পনা ও উদ্যোগ এ সময় শরীর ও মনে যৌবনের মাদকতায় ভর করে। এ সময় মানুষ মাথা তুলে দাঁড়াবার ঝুঁকি গ্রহণ করে। বদ্ধ চিন্তা এবং জীবন থেকে মুক্তি পাওয়ার অভিপ্রায়ে তারা নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখে। নবীনদের ধর্মই হলো নিজেকে নিবেদন করে দুর্বার বেগে প্রগতির পথে এগিয়ে চলা।

উদ্দীপকে নবীনদের অফুরন্ত প্রাণশক্তি প্রকাশিত হয়েছে। তারা স্বপ্ন দেখে নতুন জীবনের, সভ্যতার নব নব অগ্রগতি সাধনের। এসব স্বপ্ন বাস্তবায়নে তারা দৃঢ় পদক্ষেপে নতুন শপথে বলীয়ান হয়ে ঝঞ্ঝার মতো উদ্দাম গতিতে এগিয়ে চলে।

এই নবীনরা আকাশের মতো বাঁধাহীন, তারা মরু সঞ্চারী বেদুঈন। তাদের দুর্বার গতির সামনে কোনো প্রতিবন্ধতকতা সৃষ্টি হতে পারে না। এই নবীনরা মানুষের কল্যাণে স্বাধীনভাবে এগিয়ে চলার ঝুঁকি নেয়। ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায়ও বর্ণিত

হয়েছে যৌবনই মানুষের জীবনে শ্রেষ্ঠ সময়। এ বয়স কোনো বাধার কাছে মাথা নত করে না। এ সময় মানুষ সব বাধাবিঘ  দুমড়ে মুচড়ে এগিয়ে চলে সামনের দিকে। যৌবন স্বপ্ন দেখে বিশ্ব জয়ের। উদ্দীপকের সঙ্গে ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি এভাবেই সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ঘ.

‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় বর্ণিত যৌবনের স্বরূপ উদ্দীপকেও ফুটে উঠেছে মন্তব্যটি যথার্থ হয়েছে। আঠারো বছর বয়স তারুণ্যের বয়স, যৌবনের বয়স। এ বয়সে বুকের ভেতর বাসা বাঁধে যত রকমের দুরন্তপনা আর নব নব ইচ্ছা। মানুষ স্বাধীনভাবে চলার ঝুঁকি নেয় এ বয়সেই। এ বয়সে আছে সব দুর্যোগ আর দুর্বিপাক মোকাবেলা করার অফুরন্ত প্রাণশক্তি। ফলে তারুণ্য এগিয়ে যায় দুর্বার গতিতে নব সভ্যতার পানে।  উদ্দীপকে তরুণ প্রাণের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হযেছে। এই নবীন তরুণদের দুরন্তপনায় সৃষ্টি হয় স্বপ্নের নতুন সমাজ। আরবের

যাযাবর বেদুঈনদের দাপটে যেমন ঊষর মরুও বশীভূত হয়, সেখানে প্রকৃতি যেমন বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। তেমনি  তারুণ্যও রক্তশপথ নিয়ে সব বিপত্তি এড়িয়ে এগিয়ে চলে। ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায়ও যৌবনের এই প্রশস্তি গাওয়া হয়েছে। কবিতায় যৌবন নির্ভীক, উদ্দাম, চঞ্চল এবং আকাশের মতো বন্ধনহীন। 

মানুষের কল্যাণে নির্ভীক চিত্তে এগিয়ে যাওয়াই যৌবনের ধর্ম।

উদ্দীপক এবং ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতা উভয়টিতে নবীন এবং তারুণ্যের প্রাণধর্ম প্রকাশিত হয়েছে। প্রগতি এবং সভ্যতার পথে নিরন্তর অভিযাত্রা দুইয়েরই মূল কথা। উদ্দীপকের নবীনরা যেমন অশুভ শক্তির বিনাশ সাধন করে সত্য আর

সুন্দরের বারতা আনতে আগ্রহী তেমনি কবিতার যৌবনও পৃথিবীতে শান্তির বারতা বইয়ে দিতে উৎসুক। বস্তুত বিশ্বকে সুন্দর ও সত্যের পথে পরিচালিত করতে যে যৌবন ধর্মের বিকল্প নেই সে সত্যটি প্রকাশিত হয়েছে উদ্দীপকে। 

তাই বলা যায়, উদ্দীপকটিতে ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার মর্মবাণী প্রকাশিত হয়েছে। 

নিজে কর 

 সৃজনশীল প্রশ্ন 

চাব না পশ্চাতে মোরা, মানিব না বন্ধন ক্রন্দন

হেরিব না দিক-

গণিব না দিনক্ষণ, করিব না বিতর্ক বিচার

উদ্দাম পথিক।

ক. সুকান্ত ভট্টাচার্য কোন পত্রিকার সঙ্গে জড়িত ছিলেন?

খ. ‘এ বয়সে কানে আসে কত মন্ত্রণা’ -ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার যে বিষয়ে সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয় তা তুলে ধর।

ঘ. “উদ্দীপকে ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতারমূলভাব অনুরণিত হয়েছে।” -স্বীকার করেন কি? যুক্তিসহ 

          আপনার মতামত তুলে ধর। 


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনেট আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url