এসএসসি অর্থনীতি সংক্ষিপ্ত সাজেশন-২০২৪ || SSC Economy Short Suggestion-2024

 

আমাদের  ওয়েবসাইট “অর্ডিনেট আইটি.কম” ও  চ্যানেল ”অর্ডিনেট ক্লাসরুম  ”আপনাদের  স্বাগতম । 
আমরা একটি ভিন্ন প্রজন্মের স্বপ্ন দেখি। আমরা অধিক চিন্তাশীল প্রজন্ম গড়তে চাই, আলাদা মানুষ যাদের আগে চিন্তা করার অভ্যাস থাকবে। আমরা মানুষ কেন? কারণ আমরা চিন্তা করি, এবং সেই চিন্তাকে মুক্তচিন্তা হতে হবে। আর মুখস্থ করে আর যা ই হোক, বিজ্ঞান শিক্ষা হতে পারে না। আর সেই প্রচেষ্টারই অংশ হল আমাদের কনটেন্ট ও ভিডিও লেকচার। এই কনটেন্ট ও  ভিডিওগুলির উদ্দেশ্য হল প্রতিটি বিষয় এমনভাবে শেখানোর চেষ্টা করা যাতে আপনি বইয়ের বাইরেও অনেক কিছু ভাবতে পারেন। আর আপনি যখন চিন্তাশীল মানুষ হবেন, তখন আপনি নিজেই বুঝবেন এই দেশকে আলাদা করতে আমাদের কী করতে হবে, কতদূর যেতে হবে।



প্রথম অধ্যায় : অর্থনীতি পরিচয়

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

১.অর্থনীতি কাকে বলে?

উত্তর : অর্থনীতি এমন একটি বিজ্ঞান, যা জাতিসমূহের সম্পদের ধরন ও কারণ অনুসন্ধান করে।

২.অধ্যাপক মার্শাল প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞা দাও ।

উত্তর : অধ্যাপক মার্শালের মতে, অর্থনীতি মানব কার্যাবলি আলোচনা করে।

৩. অধ্যাপক এল. রবিন্স প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞা দাও ।

 উত্তর : অর্থনীতি হলো এমন একটি বিজ্ঞান যা মানুষের অসীম অভাব এবং বিকল্প ব্যবহারযোগ্য দুষ্প্রাপ্য উপকরণসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধনকারী কার্যাবলি আলোচনা করে।

৪.এডাম স্মিথের অর্থনীতির সংজ্ঞাটি লিখ।

 উত্তর : অর্থনীতির সংজ্ঞা প্রদান করতে গিয়ে অ্যাডাম স্মিথ বলেন, 'অর্থনীতি এমন একটি বিজ্ঞান যা জাতিসমূহের সম্পদের ধরন ও কারণ অনুসন্ধান করে।'

৫. ১৭৭৬ সালে অ্যাডাম স্মিথ কোন বিখ্যাত বই রচনা করেন?

উত্তর : ১৯৭৬ সালে অ্যাডাম স্মিথ তাঁর বিখ্যাত বই 'An Inquiry into the Nature and Causes of the Wealth of Nations' রচনা করেন। 

৬.গ্রিক সভ্যতার ইতিহাসে প্রথম অর্থনীতিবিদ কে?

উত্তর : গ্রিক সভ্যতার ইতিহাসে প্রথম অর্থনীতিবিদ হলেন এরিস্টটল।

৭.কাকে প্রথম অর্থনীতিবিদ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়?

উত্তর : এরিস্টটলকে প্রথম অর্থনীতিবিদ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

৮. অর্থনীতির মূল আলোচ্য বিষয় কী?

উত্তর : অর্থনীতির মূল আলোচ্য বিষয় মানুষের অর্থ উপার্জন এবং অভাব মোচনের জন্য সেই অর্থের ব্যয়। অর্থাৎ অর্থনীতির মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের কল্যাণ সাধন ।

৯.অর্থনীতির মৌলিক সমস্যা কয়টি? 

উত্তর : অর্থনীতির মৌলিক সমস্যা দুটি। যথা- 

  • সম্পদের স্বল্পতার সমস্যা এবং 
  •  অভাবের নির্বাচন সমস্যা।

১০. অর্থনীতি একটি স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে কখন স্বীকৃতি লাভ করে?

উত্তর : অর্থনীতি একটি স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে ১৭৭৬ সালে স্বীকৃতি লাভ করে। 

১১. অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বলতে কী বোঝ?

উত্তর : অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বলতে অর্থনৈতিক বিধিবিধান, দর্শন, নিয়ম-কানুন ও পরিবেশে যে অর্থনৈতিক কার্যকলাপ পরিচালিত হয় তাকে বোঝায়।

১২. ইসলামি অর্থব্যবস্থা কাকে বলে?

উত্তর : ইসলামের মৌলিক নিয়মকানুনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা অর্থব্যবস্থাকে ইসলামি অর্থব্যবস্থা বলা হয়।

১৩. সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা কী?

উত্তর : যে অর্থব্যবস্থা দেশের যাবতীয় সম্পদ ও উৎপাদনের উপকরণের ওপর রাষ্ট্রীয় মালিকানা প্রতিষ্ঠিত এবং কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন অর্থনৈতিক কার্যাবলি পরিচালিত হয় তাকে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে।

১৪. ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা কী?

উত্তর : যে ব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানগুলো ব্যক্তি মালিকানাধীন এবং প্রধানত বেসরকারি উদ্যোগে, সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়া স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থার মাধ্যমে যাবতীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় তাই ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা।

১৫. ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের মূল লক্ষ্য কী?

উত্তর : ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন।

১৬. মুদ্রাস্ফীতি কাকে বলে?

উত্তর : দ্রব্যসামগ্রীর মূল্যস্তর বেড়ে যাওয়ার অবস্থাকে মুদ্রাস্ফীতি বলে।

১৭. মিশ্র অর্থব্যবস্থা কাকে বলে?

উত্তর : যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও নিয়ন্ত্রণ বিরাজ করে তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলে।

১৮. ইসলামি অর্থব্যবস্থা কী?

উত্তর : ইসলামের মৌলিক নিয়ম-কানুনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা অর্থব্যবস্থাকে ইসলামি অর্থব্যবস্থা বলা হয়।

১৯. অধ্যাপক মার্শাল প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞা দাও ।

উত্তর : অধ্যাপক আলফ্রেড মার্শাল অর্থনীতির সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন, 'অর্থনীতি মানবজীবনের সাধারণ কার্যাবলি আলোচনা করে।'

২০. বাণিজ্যিবাদ কাকে বলে?

উত্তর : ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ ভাগ পর্যন্ত (১৫৯০-১৭৮০) ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও ইতালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের যে প্রসার ঘটে, তাকে বাণিজ্যিবাদ বলে।

২১. অধ্যাপক এল. রবিন্সের অর্থনীতির সংজ্ঞাটি লেখ। 

 উত্তর : ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক লিয়নেল চার্লস রবিন্সের (১৮৯৮- ১৯৮৪) মতে, 'অর্থনীতি হচ্ছে এমন একটি বিজ্ঞান যা অসীম অভাব এবং বিকল্প ব্যবহারযোগ্য দুষ্প্রাপ্য উপকরণসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধনকারী কার্যাবলি আলোচনা করে'।

২২. 'ভূমিবাদ' মতবাদ প্রচার করে কারা?

উত্তর : 'ভূমিবাদ' মতবাদ প্রচার করে ফরাসিরা।

২৩. কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে কোন কোন বিষয়ের ওপর আলোকপাত করা হয়?

উত্তর : কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে রাজনীতি, সমাজ, অর্থনীতি ও সামরিক বিষয়ের ওপর আলোকপাত করা হয়।

২৪. আদিম সমাজে উৎপাদনের একমাত্র উপকরণ কী ছিল?

উত্তর : আদিম সমাজে উৎপাদনের একমাত্র উপকরণ ছিল কায়িক শ্রম।

২৫. কারা ভূমিবাদ (Physiocracy) মতবাদ প্রচার করেছিল?

উত্তর : ফরাসিরা সে দেশের ধনী মানুষের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ভূমিবাপ মতবাদ প্রচার করেছিল।

২৬. কখন বাণিজ্যবাদের উৎপত্তি ঘটে?

উত্তর : ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্ত (১৫৯০-১৭৮০) বাণিজ্যবাদের উৎপত্তি ঘটে।

২৭. অসীম অভাব কী?

উত্তর : মানুষের সীমাবদ্ধ সম্পদের মাঝে একটি অভাব পূরণ হলে নতুন আরেকটি অভাব দেখা দেওয়াকে অসীম অভাব বলে ।

২৮. কীসের জন্যে মানুষ গুরুত্ব অনুযায়ী অভাবকে পছন্দ বা নির্বাচন করে? 

উত্তর : সম্পদের দুষ্প্রাপ্যতার জন্যে মানুষ গুরুত্ব অনুযায়ী অভাবকে পছন্দ বা নির্বাচন করে ।

২৯. দুষ্প্রাপ্যতা ও অসীম অভাব নিয়ে কোন অর্থনীতিবিদ আলোচনা করেন?

উত্তর : অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এল. রবিন্স দুষ্প্রাপ্যতা ও অসীম অভাব নিয়ে আলোচনা করেন।

৩০. অধ্যাপক মার্শালের মতে অর্থনীতির মূল উদ্দেশ্য কী?

উত্তর : অধ্যাপক মার্শালের মতে অর্থনীতির মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের কল্যাণ সাধন ।

৩১. কোন অর্থনীতিবিদ অর্থনীতির সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা প্রদান করেছেন?

উত্তর : অধ্যাপক এল, রবিন্স অর্থনীতির সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা প্রদান করেছেন ।

৩২. কখন সরকারি হস্তক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়ে?

উত্তর : বাজারব্যবস্থা ব্যর্থ হলে সরকারি হস্তক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়ে।

৩৩. মুদ্রাস্ফীতি ঘটলে কী হয়?

উত্তর : মুদ্রাস্ফীতি ঘটলে অর্থের মান কমে।

৩৪. জাতীয় আয় ও জাতীয় বায়ের মধ্যে কী বিদ্যমান থাকে?

উত্তর : জাতীয় আয় ও জাতীয় ব্যয়ের মধ্যে চক্রাকার প্রবাহ বিদ্যমান থাকে।

৩৫. পরিবারের সদস্যরা ফার্ম থেকে কী কী পায়?

উত্তর : পরিবারের সদস্যরা ফার্ম থেকে খাজনা, মজুরি ও সুদ পায়।

৩৬. ফার্মের যা বায় পরিবারের তা কী?

উত্তর : ফার্মের যা বায় পরিবারের তা আয়।

69.গণ (Public Goods) কী?

উত্তর : রাষ্ট্রীয় বা সরকারি উদ্যোগে যেসব দ্রব্য ও সেবা উৎপন্ন হয় এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষ যা সমভাবে ভোগ করতে পারে তাকে গণ (Public Goods) বলা হয়।

৩৮. ইসলামি অর্থব্যবস্থার মূলভিত্তি কয়টি?

উত্তর : ইসলামি অর্থব্যবস্থার মূলভিত্তি ৪টি।

৩৯. কোন অর্থব্যবস্থায় সুদ গ্রহণের স্বীকৃতি নেই।

উত্তর : ইসলামি অর্থব্যবস্থার সুদ গ্রহণের স্বীকৃতি নেই।


অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন-১. সম্পদের দুষ্প্রাপ্যতা বলতে কী বোঝায়? 

উত্তর : মানুষের জীবনে অভাবের শেষ নেই। কিন্তু অভাব পূরণের জন্য প্র সম্পদ সীমিত। এ কারণেই মানুষের অভাব পূরণের ক্ষেত্রে দুষ্প্রাপ্যতা দেখা দেয়। অর্থনীতিতে এটাকে সম্পদের দুষ্প্রাপ্যতা বলে। এককথায় অর্থনীতিতে সম্পদের দুষ্প্রাপ্যতা বলতে সম্পদের স্বল্পতা বা অভাব পূরণের সীমাবদ্ধতাকে বোঝানো হয়েছে। 

প্রশ্ন-২. অ্যাডাম স্মিথকে অর্থনীতির জনক বলা হয় কেন?

 উত্তর : প্রখ্যাত ইংরেজ অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথ ১৭৭৬ সালে তার বি An Inquiry into the Nature and Causes of the Wealth of Nation রচনা করেন। আজকের অর্থনীতির মূলভিত্তি হলো স্মিথের এ বই। তার মতে, 'অর্থনীতি এমন একটি বিজ্ঞান যা জাতিসমূহের সম্পদের প্রকৃতি ও কারণ সম্পর্কে অনুসন্ধান করে।' অর্থাৎ সমাজে কীভাবে সম্পদ উৎপাদন হয় এবং কীভাবে তা ব্যবহৃত হয় তাই অর্থনীতির প্রকৃতআলোচ্য বিষয়। অ্যাডাম স্মি সর্বপ্রথম অর্থনীতিকে একটি স্বতন্ত্র ও বিশিষ্ট শাস্ত্রের রূপদান করেন। এ জন্য তাকে অর্থনীতির জনক বলা হয়।

প্রশ্ন-৩. অ্যাডাম স্মিথের সংজ্ঞার দুটি দুর্বলতা লেখ।

উত্তর : অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথের মতে, অর্থনীতি এমন একটি বিজ্ঞান যা জাতিসমূহের সম্পদের ধরন ও কারণ অনুসন্ধান করে। স্মিথের সংজ্ঞার কিছু দুর্বলতা রয়েছে। স্মিথের সংজ্ঞার দুটি দুর্বলতা নিচে দেওয়া হলো- অর্থনীতি মানুষের অসীম অভাবকে কীভাবে সীমিত সম্পদ দিয়ে মেটাবে এ সংজ্ঞায় তার উল্লেখ নেই। এ সংজ্ঞায় সম্পদের ওপর অধিক জোর দেওয়া হলেও মানুষ ও তার কাজকর্মকে অবহেলা করা হয়েছে।

প্রশ্ন-৪. সুযোগ ব্যয় বলতে কী বোঝায়?

অথবা, 

'সুযোগ ব্যয়' ধারণাটি ব্যাখ্যা কর। 

উত্তর : কোনো একটি জিনিস পাওয়ার জন্য অন্য একটিকে যে পরিমাণ ত্যাগ করছে হয়, এই ত্যাগকৃত পরিমাণই হলো অন্য দ্রব্যটির সুযোগ ব্যয়। মানুষের অভাব অসীম। কিন্তু সেই অভাব পূরণের সম্পদ সীমিত। এই সীমিত সম্পদ থেকে অসীম অভাব রণের ক্ষেত্রে মানুষকে নির্বাচন করতে হয়। এখান থেকেই সুযোগ বার হ সৃষ্টি।উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করলে বিশ কুইন্টাল ধন উৎপাদন হয়। আবার পাট চাষ করলে দশ কুইন্টাল পাট চাষ করা যেত। এক্ষেত্রে বিশ কুইন্টাল ধানের সুযোগ ব্যয় হলো দশ কুইন্টাল পার্ট।

প্রশ্ন-৫. "রিক্সাচালক রিক্সা চালাতে না গিয়ে মাছ ধরতে গেল।” এটি অর্থনী কোন মৌলিক নীতির সাথে মেলে? বুঝিয়ে লিখ ।

উত্তর : “রিক্সাচালক রিক্সা চালাতে না গিয়ে মাছ ধরতে গেল " ধারণা টি সুযোগব্যয়ের সাথে মিল রয়েছে কোনো একটি জিনিস পাওয়ার জন্য অন্য একটিকে যে পরিমাণ ত্যাগ করতে হয়, এই - ত্যাগকৃত পরিমাণই হলো অন্য দ্রব্যটির সুযোগ ব্যয়। উদাহরণঞ্চরণ বলা হয় | রিক্সাচালক রিক্সা চালাতে না গিয়ে মাছ ধরতে গেল। এক্ষেত্রে বিষা চালানোর সুযোগ ব্যয় হলো মাছ ধরা |

প্রশ্ন-৬. যুক্তিবাদী মানুষ প্রান্তিক পর্যায় নিয়ে চিন্তা করে কেন?

অথবা, 

কখন মানুষ প্রান্তিক পর্যায়ে চিন্তা করে? বুঝিয়ে লেখ । 

উত্তর : প্রান্তিক বায়ের চেয়ে উপযোগ বেশি পাওয়া পর্যন্ত ভোগ করবে যুক্তিবাদী মানুষ প্রান্তিক পর্যায় নিয়ে চিন্তা করে। কোনো দ্রব্যের প্রান্তিক উপযোগ প্রান্তিক ব্যয় থেকে বেশি থাকলে ভোক্তা। হয়। ভোগ বাড়লে প্রান্তিক উপযোগ কমে। যতক্ষণ পর্যন্ত প্রান্তিক বায় প্রান্তিক উপযোগ বেশি থাকে ততক্ষণ পর্যন্তই ভোক্তা দ্রব্যের ভোগ অব্যাহত র

৭.অর্থনীতিতে কেন সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন?

উত্তর : বাজার ব্যবস্থা সাধারণত চাহিদা ও যোগানের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বাজার ব্যবস্থা সাধারণত অদৃশ্য হাতের ইশারায় চলে। কিন্তু নানা কারণে অদৃশ্য হাত সঠিকভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হয়। ফলে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়। যেমন: শিক্ষা, স্বাস্থ, আইন-শৃঙ্খলা, বিদ্যুৎ ইত্যাদি ।

৮. সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত মুনাফার অনুপস্থিতি কেন?

উত্তর : সমাজতন্ত্রে ব্যক্তিগত মুনাফার পরিবর্তে জাতীয় চাহিদা ও সামগ্রিক কল্যাণের জন্য উৎপাদন পরিচালিত হয়ে থাকে। ফলে এখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে না। কৃষি, শিল্প ও ব্যবসায় বাণিজ্য সবই সরকারের সামগ্রিক মালিকানার অধীনে থাকে বলে ব্যক্তিগত মুনাফা থাকে না। 

প্রশ্ন-৯. আয়ের বৃত্তাকার প্রবাহ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : একটি সবল অর্থনীতিতে দুই ধরনের প্রতিনিধি (agent) থাকে। যথা ভোক্তা বা পরিবার এবং উৎপাদক বা ফার্ম। এ দুই ধরনের প্রতিনিধির মধ্যে আয়- ব্যয় কীভাবে চক্রাকারে প্রবাহিত হয় তা যে চিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় তাকে আয়ের বৃত্তাকার প্রবাহ বা দ্বিখাত বলে।

নিচে চিত্রাকারে আয়ের বৃত্তাকার প্রবাহ দেখানো হলো-

(আয়ের বৃত্তাকার প্রবাহ)

চিত্রে আয়ের বৃত্তাকার প্রবাহে দেখানো হয়েছে ফার্ম তার প্রয়োজনীয় উৎপাদনের উপকরণগুলো (ভূমি, শ্রম ও মূলধন) পায় পরিবারসমূহ থেকে। এর বিনিময়ে পরিবারের সদস্যরা ফার্ম থেকে খাজনা, মজুরি ও সুদ পায়। এখানে ফার্মের যা এর পরিবারের তা আয়। আবার পরিবারসমূহ প্রাপ্ত আয় ফার্ম উৎপাদিত দ্রব্য কেনার জন্য ব্যয় করে। যা ফার্মের আয়, এভাবে পরিবার ও ফার্মের মধ্যে আয়- বায়ের জাতীয় আয় ও জাতীয় ব্যয়ের মধ্যে চক্রাকার প্রবাহ বিদ্যমান থাকে। 

প্রশ্ন-১০. মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ  ও নিয়ন্ত্রণ বিরাজ করে তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলে। এ অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত ও সরকারি উদ্যোগ সম্মিলিত ভূমিকা পালন করে।সাধারণত মিশ্র অর্থব্যবস্থায় যেসব বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায় সেগুলো হলো সম্পদের ব্যক্তিগত ও সরকারি মালিকানা, ব্যক্তিগত উদ্যোগ, সরকারি উদ্যোগ, মুনাফা অর্জন, ভোক্তার স্বাধীনতা ইত্যাদি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা।তাপিত রয়েছে। যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, বাংলাদেশ, ভারত ইয়াদি। অনেকে এ অর্থব্যবস্থাকে একটি উন্নত অর্থব্যবস্থা বলে মনে করে। 

১১. মানুষ কীভাবে অভাব নির্বাচন ও বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। 

উত্তর : মানুষের অভাব অসীম কিন্তু সম্পদ সীমিত। তাই এ সীমিত সম্পদ দিয়ে। মানুষের সকল অভাব পূরণ করা সম্ভব হয় না। মানুষের অনেক অভাবের মধ্য কে কয়েকটি অভাব পুরণ করে। অভাবের গুরুত্ব বিবেচনা করে মানুষ এ ম্যাবগুলো পূরণ করে। অতি প্রয়োজনীয় অভাবগুলো মানষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পূরণ করে। এভাবেই মানুষ অভাব নির্বাচন ও বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।

প্রশ্ন-১২. পুঁজিবাদী অর্থনীতি বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় উৎপাদনগুলোর ব্যক্তিগত মালিকানা বিদ্যমান এবং যেখানে প্রধানত বেসরকারি উদ্যোগে সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়া স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থার মাধ্যমে যাবতীয় অর্থনৈতিক কার্যাবলি পরিচালিত হয় তাকে ধনতান্ত্রিক বা পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা বলে। বিশুদ্ধ ধনতান্ত্রিক বা পুঁজিবাদী অর্থনীতির ভিত্তি হলো ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদ (Individualism)। এরকম অর্থনীতিতে ভোক্তা সাধারণ, এবং ব্যক্তি মালিকানার বহু সংখ্যক উৎপাদন, প্রতিষ্ঠান উৎপাদন, বণ্টন, ভোগ তথা সমগ্র বাজার কার্যক্রম সম্পর্কে প্রধান সিদ্ধান্তসমূহ গ্রহণ করে। প্রত্যেক ব্যক্তি উৎপাদন বণ্টন ও ভোগের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করে। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগে ফরাসি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে সমগ্র ইউরোপে পুঁজিবাদী অর্থনীতির সূত্রপাত ঘটে। ক্লাসিক্যাল অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথ ও তাঁর অনুসারীগণ এ ব্যবস্থার দৃঢ় প্রবক্তা।

প্রশ্ন-১৩. ভূমিবাদের উদ্ভব ঘটে কেন?

উত্তর : অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে ফ্রান্সে ধনীদের বিলাসী জীবনযাপন, রাষ্ট্রের যথেচ্ছা ব্যয় মেটানোর জন্যে অতিরিক্ত করারোপ এবং ইংল্যান্ডের বাণিজ্যবাদের বিরুদ্ধে ভূমিবাদের উদ্ভব ঘটে। ভূমিবাদ (Physiocracy) মতবাদ অনুযায়ী উৎপাদন বৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য শিল্প ও ব্যবসা খাত অপেক্ষা কৃষি ও কৃষি-সংশ্লিষ্ট খাতেরই ওপর অধিক নির্ভর করা উচিত।

প্রশ্ন-১৪.বাণিজ্যবাদ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : ষোড়শ শতাব্দীর শেষ ভাগ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগ (১৫৯০- ১৭৮০) পর্যন্ত ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও ইতালিতে যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটে তাকে 'বাণিজ্যবাদ' (Mercantilism) বলা হয়। বৈদেশিক বাণিজ্যে উদ্বৃত্ত সৃষ্টি, বিদেশ থেকে মূল্যবান ধনসম্পদ আহরণ, রাষ্ট্রের ক্ষমতা বৃদ্ধি ইত্যাদি সম্পর্কীয় মতবাদই হলো বাণিজ্যবাদ ।

প্রশ্ন-১৫. সম্পদের বিকল্প ব্যবহার বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : একটি অভাবের পরিবর্তে অন্য একটি অভাব পূরণের জন্য সীমিত সম্পদ ব্যবহার করাকেই সম্পদের বিকল্প ব্যবহার বলা হয়ে থাকে। অন্যভাবে বলা যায়, সম্পদের বিকল্প ব্যবহার বলতে কোনো একটি উপকরণ বিভিন্ন চাহিদা মেটানোর উপায় হিসেবে ব্যবহার করাকে বোঝায়। কৃষিক্ষেত্রে একখণ্ড জমি পাট চাষে ব্যবহার না করে বিকল্পভাবে ধান চাষের জন্য ব্যবহার করা যায়।

প্রশ্ন-১৬. দুষ্প্রাপ্যতার সৃষ্টি হয় কেন?

উত্তর : মানুষের জীবনে অভাবের শেষ নেই। অর্থাৎ মানুষের চাহিদা অসীম। আর এই চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজন হয় সম্পদের। কিন্তু সম্পদের পরিমাণ সীমিত হওয়ার কারণে মানুষের সকল অভাব বা চাহিদা পূরণ হয় না। দুষ্প্রাপ্যতার কারণ এটাই। কেননা অভাব কম হলে দুষ্প্রাপ্যতার সৃষ্টি হতো না। সুতরাং মানুষের অসীম অভাব আর সে তুলনায় সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে দুষ্প্রাপ্যতার সৃষ্টি হয়।

প্রশ্ন-১৭. মানুষ কীভাবে অভাব নির্বাচন ও বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করে?

উত্তর : যেহেতু মানুষের অভাব অনেক এবং সম্পদ সীমিত, তাই সীমিত সম্পদ দিয়ে মানুষের অভাব পূরণ হয় না। মানুষ অনেক অভাব থেকে কয়েকটি অভাব পূ রণ করে। অভাবের গুরুত্ব বিবেচনা করে মানুষ কিছু অভাব পূরণ করে। অভিপ্রয়োজনীয় অভাবগুলো মানুষ অগ্রাধিকারে ভিত্তিতে পূরণ করে। এভাবেই মানুষ অভাব নির্বাচন ও বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করে।

প্রশ্ন-১৮. অধ্যাপক মার্শাল অর্থনীতি সম্পর্কে কী বলেছেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : অধ্যাপক মার্শাল সম্পদের চেয়ে মানব কল্যাণের ওপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, “অর্থনীতি মানবজীবনের সাধারণ কার্যাবলি আলোচনা করে।" অর্থনীতির মূল আলোচ্য বিষয় মানুষের অর্থ উপার্জন এবং অভাব মোচনের জন্য সেই অর্থের বায়। অর্থাৎ অর্থনীতির মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের কল্যাণ সাধন।

প্রশ্ন-১৯. মানুষ প্রান্তিক পর্যায়ে চিন্তা করে কেন?

উত্তর : মানুষ কোনো দ্রব্য ভোগ করতে গেলে প্রথমেই যে প্রান্তিক উপযোগ ও প্রান্তিক ব্যয় তথা প্রান্তিক পর্যায়ের চিন্তা-ভাবনা করে। কোনো দ্রব্যের প্রান্তিক উপযোগ প্রান্তিক ব্যয় থেকে বেশি থাকলে সে লাভবান হয়। ভোগ বাড়লে প্রান্তিক উপযোগ কমে। তবে ভোক্তা ততক্ষণ পর্যন্ত দ্রব্যের ভোগ অব্যাহত রাখে যতক্ষণ পর্যন্ত তার প্রান্তিক ব্যয় থেকে প্রান্তিক উপযোগ বেশি থাকে।

প্রশ্ন ২০. ইসলামি অর্থব্যবস্থা বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। আল্লাহ প্রদত্ত কোরাআন ও হাদিসের বিধান অনুসারে সমুদয় জাগতিক সম্পদের ও কল্যাণমুখী ব্যবস্থা গ্রহণ করাকে ইসলামি অর্থব্যবস্থা বলে। মানুষের কল্যাণের জন্য সম্পদের সর্বাধিক উৎপাদন, সুষ্ঠু বণ্টন ও ন্যায়সঙ্গত ভোগ নিশ্চিত করাই ইসলামি অর্থব্যবস্থার মূল লক্ষ্য।


দ্বিতীয় অধ্যায় : অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ধারণাসমূহ

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

১.সম্পদ কাকে বলে?

উত্তর : যে সমস্ত জিনিস বা দ্রব্য যেগুলো পেতে চাইলে অর্থ ব্যয় করতে হয় তাকে সম্পদ বলে।

২.উৎপাদিত সম্পদ কী?

উত্তর : প্রাকৃতিক ও মানবিক সম্পদ কাজে লাগিয়ে যে সম্পদ সৃষ্টি হয় তাকে উৎপাদিত সম্পদ বলা হয়।

৩.অবাধলভ্য দ্রব্য কী?

উত্তর : যেসব দ্রব্য বিনা পরিশ্রমে এবং বিনামূল্যে পাওয়া যায় তাকে অবাধলভ্য দ্রব্য বলে।

8. মধ্যবর্তী দ্রব্য কাকে বলে?

উত্তর : যেসব উৎপাদিত দ্রব্য সরাসরি ভোগের জন্য ব্যবহার না করে উৎপাদনের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তাবে মধ্যবর্তী দ্রব্য বলে। 

৫. চূড়ান্ত দ্রব্য কী?

 উত্তর : যেসব দ্রব্য উৎপাদনের পর সরাসরি ভোগে ব্যবহৃত হয় তাকে চূড়ান্ত দ্রব্য বলে।

৬.আয় কী?

উত্তর : উৎপাদনের কোনো উপকরণ ব্যবহারের জন্য উপকরণটি বা এটির মালিক একটি নির্দিষ্ট সময়ে যে অর্থ পায়, তাকে আয় বলে।

৭.সঞ্জয় কাকে বলে?

উত্তর : মানুষ ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আয়ের একটি অংশ কোনো প্রতিষ্ঠানে জমা রাখে। এই রেখে দেওয়া অংশকে সঞ্চয় বলে।

৮. বিনিয়োগ কী?

উত্তর : সঞ্চিত অর্থ যখন উৎপাদন বাড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হয়, তখন তাকে বিনিয়োগ বলে।

৯.অর্থনৈতিক দ্রব্য কাকে বলে?

উত্তর : যেসব দ্রব্য পাওয়ার জন্য মানুষকে মূল্য প্রদান করতে হয় তাকে অর্থনৈতিক দ্রব্য বলা হয়।

১০. অর্থনৈতিক কার্যাবলি কী?

উত্তর : মানুষ জীবিকা সংগ্রহের জন্য যে কার্যাবলি করে থাকে তাকে অর্থনৈতিক কার্যাবলি বলা হয়।

১১. তাপ বিদ্যুৎ কী?

উত্তর : গ্যাস তেল কয়লার সাহায্যে যে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় তাকে তাপ বিদ্যুৎ বলে।

১২. জাতীয় সম্পদ কী?

উত্তর : ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত সম্পদের সমষ্টিকে জাতীয় সম্পদ বলে।

১৩. অর্থনীতিতে কোন ধরনের দ্রব্যসামগ্রীকে সম্পদ বলে?

উত্তর : যেসব দ্রব্যসামগ্রীর উপযোগ আছে, যোগান সীমাবদ্ধ এবং বিক্রয়যোগ্য অর্থনীতিতে সে ধরনের দ্রব্যসামগ্রীকে সম্পদ বলে। 

১৪. মূলধনী দ্রব্য কাকে বলে?

উত্তর : যেসব দ্রব্য প্রত্যক্ষভাবে ভোগ করা হয় না কিন্তু তা ভোগ্য দ্রবা উৎপাদনে সাহায্য করে তাকে মূলধনী দ্রব্য বলে ।

১৫. সুযোগ ব্যয় কী?

উত্তর : কোনো একটি জিনিস পাওয়ার জন্য অন্যটিকে ত্যাগ করতে হয় এই ত্যাগকৃত সুযোগই হলো সুযোগ বায়।

১৬. আর্থিক আয় কাকে বলে?

উত্তর : একটি নির্দিষ্ট সময় কাজ করার বিনিময়ে যে পরিমাণ অর্থ পাওয়া। যায় তাকে আর্থিক আয় বলে।

১৭. প্রকৃত আয় কাকে বলে?

উত্তর : আর্থিক আয় দ্বারা যে পরিমাণ দ্রব্যসামগ্রী ও সেবাকর্ম ক্রয় করা যায়। তাকে প্রকৃত আয় বলে।

১৮. সায়ের গাণিতিক সূত্রটি লেখ।

উত্তর : সঞ্চয়ের গাণিতিক সূত্র S=Y - C (যখন Y > C) 

১৯. অ-অর্থনৈতিক কার্যাবলি কী?

উত্তর : যেসব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্থ উপার্জিত হয় না এবং তা জীবন ধারণের জন্য ব্যয় করা হয় না তাকে অ-অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বলা হয়। 

২০. জাতীয় সম্পদ ?

উত্তর : ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত সম্পদের সমষ্টিকে বলা হয় জাতীয়  সম্পদ।

২১. উৎপত্তির দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পদকে কতভাগে ভাগ করা হয়? 

উত্তর : উৎপত্তির দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 

২২. বাংলাদেশে মোট ভূখণ্ডের কতভাগ বনভূমি রয়েছে?

উত্তর: বাংলাদেশে মোট ভূখণ্ডের প্রায় শতকরা ১১.১০ ভাগ বনভূমি রয়েছে।

২৩. সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন কত?

উত্তর : সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন প্রায় ৬০১৭ বর্গ কি. মি. । 

২৪.সিলেটের বনভূমির আয়তন কত?

উত্তর : সিলেটের বনভূমির আয়তন ১,০৪০ বর্গকিলোমিটার। 

২৫. বাওয়ালের বনভূমির আয়তন কত?

উত্তর : মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমির আয়তন প্রায় ১০৬৪ বর্গকিলোমিটার।

২৬. কুইক রেন্টাল সার্ভিসের মাধ্যমে সরকার কী সরবরাহ করছে?

উত্তর : কুইক রেন্টাল সার্ভিসের মাধ্যমে সরকার বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। 

২৭. মধ্যবর্তী দ্রব্য কী?

উত্তর : যেসব দ্রব্য সরাসরি ভোগের জন্যে ব্যবহার না করে উৎপাদনে উপকরণ হিসেবে ব্যবহার হয় তাকে মধ্যবর্তী দ্রব্য বলে।

২৮. স্থায়ী ভোগ্য দ্রব্য কী?

উত্তর : যেসব ভোগ্য দ্রব্য স্থায়ীভাবে কোথাও অবস্থান করে তাকে স্থায়ী ভোগা দ্রব্য বলে।

2৯. ধনী বা কী?

উত্তর : যেসব দ্রব্য প্রত্যক্ষভাবে ভোগ করা হয় না কিন্তু তা ভোগ্য দ্রব্য উৎপাদনে সাহায্য করে, তাকে মূলধনী দ্রব্য বলে।

৩০. ভোগ্য দ্রব্য কাকে বলে?

উত্তর : ভোগ বা ব্যবহারের মাধ্যমে যে সমস্ত দ্রব্যের উপযোগ নিঃশেষ করা যায় তাদেরকে ভোগ্য দ্রব্য বলে।

৩১. বাতাস কী ধরনের দ্রব্য?

উত্তর : বাতাস অবাধলভ্য দ্রব্য।


 অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন-১. সম্পদের প্রধান বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর। 

উত্তর : উপযোগ হলো সম্পদের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। কোনো দ্রব্যের অভাব মোচনের ক্ষমতাকে উপযোগ বলে। তাই যেসব দ্রব্যসামগ্রীর উপযোগ আছে অর্থাৎ যে কোনো না কোনোভাবে মানুষের অভাব পূরণ করতে পারে সেগুলোই সম্পদ। তাই বলা যায়, কোনো কিছুকে সম্পদ হতে হলে তার অবশ্যই উপযোগ থাকতে হবে।

প্রশ্ন-২. ব্যবসায়ের সুনামকে সম্পদ বলা হয় কেন?

উত্তর : সাধারণত সম্পদ বলতে ধন-সম্পদ বা টাকা-পয়সাকে বোঝায়। কিন্তু অর্থনীতিতে যেসব দ্রব্যসামগ্রীর উপযোগ আছে, যার যোগান সীমাবদ্ধ, যা মানুষের তৈরি এবং যার বিনিময় মূল্য আছে তাই সম্পদ। এ সম্পদ বস্তুগত-হতে পারে। ব্যবসায়ের সুনাম এমনই একটি অবস্তুগত সম্পদ। কেননা, এর উপযোগ আছে, এর প্রাপ্যতা দুষ্প্রাপ্য, এটি মানুষেরই তৈরি এবং সর্বোপরি এর বিনিময় মূল্য আছে।

৩.সূর্যের আলো সম্পদ নয় – অর্থনীতির ভাষায় ব্যাখ্যা কর। 

উত্তর : 'সূর্যের আলো সম্পদ নয়। কার কোনো জিনিসকে সম্পদ বলতে হলে তার নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে। এ বৈশিষ্ট্যসমূহ হচ্ছে উপযোগ, অপ্রাচুর্যতা, হস্তান্তরযোগ্য এবং বাহ্যিকতা। কোনো জিনিসের উপযোগ সৃষ্টির ক্ষমতা না থাকলে তা মানুষ অর্থ | কেনে না। সূর্যের আলো, বাতাস ইত্যাদির যোগান প্রচুর বলে এগুলো ভাষায় সম্পদ নয়।

প্রশ্ন-৪. সব জিনিসকে আমরা সম্পদ বলতে পারি না কেন?

উত্তর : সব জিনিসকে আমরা সম্পদ বলতে পারি না কারণ কোনো জিনিসকে সম্পদ বলতে হলে তার নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে। এ বৈশিষ্ট্যসমূহ হচ্ছে উপযোগ, অপ্রাচুর্যতা, হস্তান্তরযোগ্য এবং বাহ্যিকতা। কোনো জিনিসের উপযোগ সৃষ্টির ক্ষমতা না থাকলে তা মানুষ অর্থ দিয়ে কেনে না। নদীর পানি, বাতাস ইত্যাদির যোগান প্রচুর বলে এগুলো সম্পদ নয়। কবির প্রতিভা হস্তান্তরযোগ্য নয় এবং কম্পিউটারের ওপর বিশেষ দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা কিংবা কারও চারিত্রিক গুণাবলির কোনো বাহ্যিক অস্তিত্ব নেই বলে এগুলোকেও সম্পদ বলা যাবে না। কোনো জিনিসকে অর্থনীতিতে সম্পদ বলতে হলে তার চারটি বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক।

প্রশ্ন-৫. S + C = Y সমীকরণটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : S + C = Y সমীকরণটি হলো আয় সমীকরণ।

সমীকরণে S = সঞ্জয়, C = ভোগ, Y = আয়। 

আয়ের যে অংশ বর্তমানে ভোগ না করে ভবিষ্যতের জন্য রাখা হয় তা সঞ্জয়। ফলে সঞ্জয় ও ভোগের সমন্বয়ে হলো আয় ।

প্রশ্ন-৬. ভোগ্য দ্রব্য বলতে কী বোঝায়।

উত্তর : ভোগ বা ব্যবহারের মাধ্যমে যে সমস্ত দ্রব্যের উপযোগ নিঃশেষ করা হয় তাকে ভোগ্য দ্রব্য বলে। যেমন: গাড়ি, বন্দর খেলার মাঠ ইত্যাদি। ভোগ্য দ্রব্যকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন: স্থায়ী তোগা দ্রব্য, অস্থায়ী ভোগ্য দ্রব্য।

 প্রশ্ন-৭. মূলধনী দ্রব্য বলতে কী বোঝায়?

উত্স : যে সমস্ত উৎপাদিত দ্রব্য অন্য দ্রব্য উৎপাদনে সাহায্য করে তাকে মূলখনী দা বলে। যেমন- যন্ত্রপাতি, কারখানা, গুদামঘর ইত্যাদি। মূলধনী দ্রব্য বারবার উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত হয়। মূলধনী দ্রব্য আবার মূলধনী দ্রব্য উৎপাদনেও ব্যবহৃত হয়। 

প্রশ্ন-৮. অবাধলভ্য দ্রব্য কী?

উত্তর : যেসব দ্রব্য বিনা পরিশ্রমে এবং বিনামূল্যে পাওয়া যায় তাকে অবাংলভা দ্রব্য বলে। অবাধলতা দ্রব্যের যোগান প্রকৃতিতে সীমাহীন। যেমন-আলো, বাতাস ইত্যাদি। অন্যদিকে যেসব দ্রব্য পাওয়ার জন্য মানুষকে মূল্য প্রদান করতে হয় তাকে অর্থনৈতিক দ্রব্য বলা হয়। অর্থনৈতিক দ্রব্যের যোগান সীমানার থাকে। যেমন- খাদ্য, বস্ত্র, বই ইত্যাদি।

প্রশ্ন-৯. মধ্যবর্তী দ্রব্য বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : যেসব উৎপাদিত দ্রব্য সরাসরি ভোগের জন্য ব্যবহার না করে উৎপাদনের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তাবে মধ্যবর্তী দ্রব্য বলে। মধ্যবর্তী দুবা চূড়ান্ত উৎপাদনে নিঃশেষ হয়ে যায়। যেমন, কাঁচামাল, রসগোল্লা তৈরির জন্য ব্যবহৃত দুধ ও চিনি মধ্যবর্তী দ্রব্য।

প্রশ্ন-১০. মানবিক সম্পদ ও উৎপাদিত সম্পদের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় কর।

উত্তর : মানুষের মানবীয় গুণাবলিকে বলা হয় মানবিক সম্পদ। যেমন- শারীরিক যোগ্যতা, প্রতিভা, উদ্যোগ, দক্ষতা, সাংগঠনিক ক্ষমতা ইত্যাদি মানবিক সম্পम। অন্যদিকে প্রকৃতির কাছ থেকে পাওয়া যেসব দ্রব্য মানুষের প্রয়োজন 

মেটায় তাই প্রাকৃতিক সম্পদ। যেমন- ভূমি, বনভূমি, খনিজ সম্পদ, নদনদী ইত্যাদি । 

প্রশ্ন-১১, অবাধলভ্য ও অর্থনৈতিক দ্রব্যের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ কর।

উত্তর : অবাধলতা ও অর্থনৈতিক দ্রব্যের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। যে জিনিসের উপযোগ আছে অর্থনীতিতে তাই হলো দ্রব্য। যেসব দ্রব্য বিনামূল্যে পাওয়া যায় তাকে বলা হয় অবাধলতা দ্রব্য। এসব দ্রব্য প্রকৃতিতে অবাধে পাওয়া

 যায় এবং এর যোগান থাকে সীমাহীন। যেমন আলো, বাতাস, নদীর পানি ইত্যাদি। আর যেসব দ্রব্য পাওয়ার জন্য মানুষকে মূল্য প্রদান করতে হয় তাকে অর্থনৈতিক দ্রব্য বলা হয়। এগুলোর যোগায় সীমাবদ্ধ থাকে। 

যেমন- খাদ্য, বস্তা, বই, কলম, চেয়ার, টেবিল ইত্যাদি। অবাধলভা ও অর্থনৈতিক দ্রব্যের মধ্যে এসব পার্থক্যই বিদ্যমান।

প্রশ্ন-১২, সঞ্চয় বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : আয়ের যে অংশ বর্তমানে ভোগ না করে ভবিষ্যতের জন্য রাখা হয় তাকে সাবা বলে। ধরি, একজন ব্যক্তি এক মাসে দশ হাজার টাকা বেতন পান। নয় হাজ টাকা তিনি পরিবারের জন্য ব্যয় করেন। এখানে তিনি এক হাজার 

টাকা সম করেন। সঞ্জয়ের এ ধারণাটি সমীকরণ দিয়ে বুঝানো যায়। যেমন: S - Y - C

প্রশ্ন-১৩. 'কোনো দ্রব্য সম্পদ হতে হলে তার উপযোগ থাকতে হবে'- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : উপযোগ সম্পদের প্রধান বৈশিষ্ট্য। কোনো দ্রব্যের অভাব মোচনের ক্ষমতাকে উপযোগ বলে। যেসব দ্রব্যের উপযোগ আছে, যোগান সীমাবদ্ধ এবং বিক্রয়যোগ্য সেসব দ্রব্যকে অর্থনীতিতে সম্পদ বলে।

যেমন- বাড়িঘর, আসবাবপত্র, খাদ্যদ্রব্য ইত্যাদি। এজন্যই বলা হয়, কোনো দ্রব্য সম্পদ হতে হলে তার উপযোগ থাকতে হবে।

প্রশ্ন ১৪. সম্পদের বাহ্যিকতার বৈশিষ্ট্যটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : সম্পদের চতুর্থ বৈশিষ্ট্য হলো বাহ্যিকতা। সম্পদ হতে হলে তার বাহ্যিক অবস্থান থাকতে হবে। যেসব দ্রব্য মানুষের অভ্যন্তরীণ গুণ বোঝায় তা অর্থনীতির ভাষায় সম্পদ নয়। কেননা, এর কোনো বাহ্যিক অস্তিত্ব আমরা উপলব্ধি

 করতে পারি না। যেমন- কোনো ব্যক্তির কম্পিউটারের ওপর বিশেষ অভিজ্ঞতা বা জ্ঞান কিংবা কারো চারিত্রিক গুণাবলিকে সম্পদ বলা যাবে না। কারণ এগুলোর বাহ্যিকতা নেই।

প্রশ্ন-১৫. 'নদীর পানি কী ধরনের দ্রব্য? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : নদীর পানি অবাধলভ্য দ্রব্য। যে সমস্ত দ্রব্য বিনামূল্যে পাওয়া যায় তাকে অবাধলভ্য, দ্রব্য বলে। এসব দ্রব্য প্রকৃতিতে অবাধে পাওয়া যায় এবং এর যোগান সীমাহীন। নদীর পানির জন্য মূল্য দিতে হয় না। নদীর পানি প্রকৃতিতে

 অবাধে পাওয়া যায় এবং এর যোগান সীমাহীন। তাই নদীর পানিকে অবাধলভ্য দ্রব্য বলে।

প্রশ্ন-১৬, বিনিয়োগ সম্পর্কে বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর : মানুষ আয় থেকে সঞ্জয় করে থাকে। সঞ্চিত অর্থ যখন উৎপাদন বাড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হয় তখন তাকে বিনিয়োগ বলে। ধরি, একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি কারখানায় এক লক্ষ টাকার মূলধন সামগ্রী আছে। উৎপাদন বাড়ানোর

 জন্যে আরও পঞ্চাশ হাজার টাকা ওই কারখানায় ব্যবহৃত হলো। অতিরিক্ত এ পঞ্চাশ হাজার টাকা হলো বিনিয়োগ। বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন সব হয়।

প্রশ্ন-১৭. মানুষ বিভিন্ন অর্থনৈতিক কাজ করে কেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : দৈনন্দিন জীবনে মানুষকে বহুবিধ অভাবের সম্মুখীন হতে হয় বলেই বিভিন্ন অর্থনৈতিক কাজ করে। যেমন: খাদ্য, বস্ত্ৰ, চিকিৎসা, শিক্ষা ইত্যাদি। এ - সকল দ্রব্যের অভাব পূরণের জন্যে মানুষের অর্থের প্রয়োজন হয়। 

তাই মানুষকে নানা ধরনের অর্থনৈতিক কাজ করতে হয়। যদি মানুষের অভাব না থাকত অর্থাৎ দ্রব্য বা সেবা পাবার আকাঙ্ক্ষা না থাকত তবে অর্থনৈতিক কাজের প্রয়োজন হতো না। তাই বলা যায়, মানুষ তার অভাব পূরণ্যের

জন্য বিভিন্ন অর্থনৈতিক কাজ করে থাকে।



তৃতীয় অধ্যায় : উপযোগ, চাহিদা, যোগান ও ভারসাম্য

১.উপযোগ কাকে বলে?

উত্তর : কোনো দ্রব্য বা সেবার দ্বারা মানুষের অভাব পূরণের ক্ষমতাকে উপযোগ বলে ।

২.প্রান্তিক উপযোগ কাকে বলে?

উত্তর : একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো একটি দ্রব্যের অতিরিক্ত এক একক ভোগ করে একজন ভোক্তা যে অতিরিক্ত পরিমাণ উপযোগ লাভ করে তাকে প্রান্তিক উপযোগ বলে।

৩.ক্রমহ্রাসমান উপযোগ বিধিটি কী?

উত্তর : ভোক্তা কোনো একটি দ্রব্য যত বেশি ভোগ করে তার কাছে ঐ দ্রব্যের প্রান্তিক উপযোগ তত কমে যেতে থাকে। ভোগের মোট পরিমাণ বৃদ্ধির ফলে প্রান্তিক উপযোগ কমে যাওয়ার এ প্রবণতাকে ক্রমহ্রাসমান' প্রান্তিক উপযোগ বিধি বলে।

৪.মোট উপযোগ কাকে বলে?

উত্তর : কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি দ্রব্যের বিভিন্ন একক থেকে প্রাপ্ত উপযোগের সমষ্টিকে মোট উপযোগ বলে ।

৫.ভোক্তা কাকে বলে?

উত্তর : কোনো অবাধ সহজলভ্য দ্রব্য ছাড়া অন্যসব দ্রব্য ভোগ করার জন্য যে ব্যক্তি অর্থ ব্যয় করতে প্রস্তুত থাকে তাকে ভোক্তা বলে।

৬.ভোগ কাকে বলে? 

উত্তর : মানুষের অভাব পূরণের জন্য কোনো দ্রব্যের উপযোগকে নিঃশেষ করাকে ভোগ বলে।

৭.ভারসাম্য দাম কাকে বলে?

উত্তর : যে দামে চাহিদা ও যোগান পরস্পর সমান হয় তাকে ভারসাম্য দাম। বলে।

৮.চাহিদা কাকে বলে? 

উত্তর : ক্রেতার একটি পণ্য নির্দিষ্ট সময়ে কেনার আকাঙ্ক্ষা, সামর্থ্য এবং নির্দিষ্ট মূল্যে দ্রব্যটি ক্রয় করার ইচ্ছা থাকলে তাকে অর্থনীতিতে চাহিদা বলে।

৮. চাহিদা বিধি কী?

উত্তর : কোনো দ্রব্যের দামের সাথে তার চাহিদার পরিমাণের সম্পর্ক যে বিধির সাহায্যে ব্যাখ্যা করা হয় তাকে চাহিদা বিধি বলে।

৯.চাহিদার শর্ত কয়টি?

উত্তর : চাহিদার শর্ত তিনটি ।

১০. বাজার চাহিদা কী?

উত্তর : বাজারে নির্দিষ্ট দামে সব ভোক্তার ব্যক্তিগত বা ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণ চাহিদার সমষ্টিকে বলা হয় বাজার চাহিদা।

১১. যোগান কাকে বলে? 

উত্তর : কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো নির্দিষ্ট দামে কোনো বিক্রেতা নির্দিষ্ট পণ্যের যে পরিমাণ বিক্রয় করতে প্রস্তুত থাকে তাকে যোগান বলে।

 ১২. অর্থনীতিতে যোগান বলতে কী বোঝ?

উত্তর : অর্থনীতিতে যোগান বলতে একজন বিক্রেতা কোনো একটি দ্রব্যের যে পরিমাণ একটি নির্দিষ্ট সময়ে এবং নির্দিষ্ট দামে বেচার উদ্দেশ্যে বাজারে নিয়ে আসে তাকে বোঝায়।

১৩. যোগান সূচি কী?

উত্তর : দ্রব্যের দাম বাড়লে যোগানের পরিমাণ বাড়ে, দাম কমলে যোগানের পরিমাণ কমে। দাম পরিবর্তনের ফলে যোগানের এ. সমমুখী পরিবর্তনকে যে ছকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয় তাই যোগান সূচি।

১৪. যোগান রেখা কাকে বলে?

উত্তর : কোনো দ্রব্যের দাম বাড়লে যোগান বাড়ে দাম কমলে যোগান কমে। দাম পরিবর্তনের ফলে যোগানের এ সমমুখী পরিবর্তনকে যখন রেখাচিত্রের মাধ্যমে দেখানো হয় তখন তাকে যোগান রেখা বলে । 

১৫. ব্যক্তিগত যোগান কী?


অথবা, ব্যক্তিগত যোগান সূচি কী?

 উত্তর : একটি নির্দিষ্ট সময়ে একজন বিক্রেতা বিভিন্ন দামে একটি দ্রব্যের যে বিভিন্ন পরিমাণ দ্রব্য যোগান দেন তাকে ব্যক্তিগত যোগান বা ব্যক্তিগত যোগান সূচি বলে ।

১৬. কখন প্রান্তিক উপযোগ শূন্য হয়?

উত্তর : মোট উপযোগ সর্বোচ্চ হলে প্রান্তিক উপযোগ শূন্য হয়।

১৭. অতিরিক্ত এক একক ভোগের জন্য যে অতিরিক্ত উপযোগ সৃষ্টি হয় তাকে কী বলে?

উত্তর : অতিরিক্ত এক একক ভোগের জন্য যে অতিরিক্ত উপযোগ সৃষ্টি হয় প্রান্তিক উপযোগ বলে ।

১৮. চাহিদা সংকোচন কী?

উত্তর : অন্যান্য বিষয় (ক্রেতার আয়, ক্রেতার রুচি, সময়) অপরিবর্তিত অবস্থায় শুধু দ্রব্যটির নিজের দাম বাড়লে চাহিদা কমে একে চাহিদার সংকোচন বলে।

১৯. ভেবলেন দ্রব্য কী?

উত্তর : যে সব পণ্য মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি করে, দেখতে জাঁকজমকপূর্ণ এসব দ্রব্যকে ভেবলেন দ্রব্য বলা হয়।

২০. গিফেন দ্রব্য কী?

উত্তর : যে দ্রব্যের ক্ষেত্রে দাম কমলে তার চাহিদা কমে এবং দাম বাড়লে তার চাহিদা বাড়ে তাকে গিফেন দ্রব্য বলে।

২১. ভারসাম্য পরিমাণ কী?

উত্তর : ভারসাম্য দামে যে পরিমাণ কেনা-বেচা হয় তাকে ভারসাম্য পরিমাণ বলে।


অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন-১. উপযোগ বলতে কী বোঝায়? 

উত্তর : সাধারণত উপযোগ বলতে কোনো দ্রব্যেও উপকারিতাকে বুঝোয়। কিন্তু অর্থনীতিতে উপযোগ একটি বিশেষে অর্থ বহন করে। অর্থাৎ, কোনো দ্রব্য বা সেবার দ্বারা মানুষের অভাব পূরণের ক্ষমতাকে উপযোগ বলে।

 দ্রব্য বা সেবা যা-ই হোক না কেনো, মানুষের অভাব পরণ করতে পারে তা উপযোগ বলে মনে করা হবে। যেমন: খাদ্য, বস্ত্র, কলম, কাগজ ইত্যাদি।

প্রশ্ন-২. মোট উপযোগ ও প্রান্তিক উপযোগ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : মোট উপযোগ : একটি নির্দিষ্ট সময়ে একজন ভোক্তা কোনো একটি দ্রব্যের বিভিন্ন একক ভোগ করে যে পরিমাণ উপযোগ লাভ করে তার সমষ্টিকে মোট উপযোগ বলে। যেমন- কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একজন ভোক্তা

 যদি পর পর ৩টি আম ভোগ করে এবং ১ম, ২য় ও ৩য় আম থেকে যথাক্রমে ৫, ৪ ও ৩ টাকার সমান উপযোগ পায়, তবে মোট উপযোগ হবে (৫ + ৪ + ৩) = ১২ টাকার সমান। প্রান্তিক উপযোগ : একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো

 একটি দ্রব্যের অতিরিক্ত এক একক ভোগ করে একজন ভোক্তা অতিরিক্ত যে পরিমাণ উপযোগ লাভ করে তাকে প্রান্তিক উপযোগ বলে। ধরা যাক, একজন ভোক্তা ২ একক পাকা আম ভোগ করে ৯ টাকার সমান উপযোগ পায়।

এখন, ৩য় একক ভোগ করার ফলে যদি উপযোগ বেড়ে ১২ টাকার সমান হয় তবে প্রান্তিক উপযোগ হবে (১২ টাকা – ৯ টাকা) = ৩ টাকার সমান।

প্রশ্ন-৩. চাহিদা বিধি কী? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : কোনো দ্রব্যের দামের সাথে তার চাহিদার পরিমাণের বিপরীত সম্পর্ক যে বিধির সাহায্যে প্রকাশ করা হয় তাকে চাহিদা বিধি বলে। চাহিদা বিধি বলতে আমরা বুঝি, 'অন্যান্য অবস্থা (ভোক্তার আয়, রুচি ও অভ্যাস

, বিকল্প দ্রব্যের দাম সময়) অপরিবর্তিত থেকে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে দ্রব্যের দাম কমলে তার চাহিদার পরিমাণ বাড়ে এবং দাম বাড়লে চাহিদার পরিমাণ কমে। যেমন- কোনো দ্রব্যের প্রতি এককের দাম ১০ টাকা হলে 

একজন ভোক্তা B একক দ্রব্য ক্রয় করে। দাম কমে যথাক্রমে ৮ টাকা, ৬ টাকা এবং ৪ টাকা হলে চাহিদা বেড়ে যথাক্রমে ৬, ৮, ১০ একক হয়। এক্ষেত্রে দেখা যায় দ্রব্যের দাম ও চাহিদার পরিমাণের সাথে বিপরীত সম্পর্ক

 যা চাহিদা বিধিতে প্রকাশ পায় ।

প্রশ্ন-৪. চাহিদা রেখা ডানদিকে নিম্নগামী কেন? ব্যাখ্যা কর।

 উত্তর : দাম ও চাহিদার পরিমাণের মধ্যে বিপরীতমুখী সম্পর্কের কারণে চাহিদা রেখাটি ডানদিকে নিম্নগামী হয় । চাহিদা বিধিতে অন্যান্য অবস্থা তথা ভোক্তার আয়, রুচি ও অভ্যাস, সম্পর্কিত দ্রব্যের দাম, ক্রেতার সংখ্যা ইত্যাদি 

স্থির ধরে নিয়ে দাম ও চাহিদার পরিমাণের মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক প্রকাশ পায়। অর্থাৎ, কোনো দ্রব্যের দাম কমলে তার চাহিদা বাড়ে এবং দাম বাড়লে চাহিদা কমে। দাম ও চাহিদার পরিমাণের মধ্যে এ রকম বিপরীত সম্পর্ক বলেই 

চাহিদা রেখাটি ডানদিকে নিম্নগামী হয় । 

প্রশ্ন-৫. বাজার চাহিদা বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : বাজারে সব ভোক্তার ব্যক্তিগত চাহিদার সমষ্টিকে বলা হয় বাজার চাহিদা। একজন ব্যক্তির চাহিদাসূচি থেকে যেমন ব্যক্তিগত চাহিদা রেখা অঙ্কন করা যায়,ঠিক তেমনি সমস্ত ক্রেতার ব্যক্তিগত চাহিদা যোগ করে বাজার চাহিদা

 রেখা অঙ্কন করা সম্ভব । উদাহরণস্বরূপ কোনো বাজারে যদি দুইজন ক্রেতা থাকে এবং পণ্যের দাম ২ টাকা হয় এবং তাদের চাহিদা যদি যথাক্রমে ১৫ ও ২০ একক হয় তাহলে বাজার চাহিদা হবে (১৫ + ২০) = ৩৫ একক। এভাবে 

বাজার চাহিদাসূচি তৈরি করা সম্ভব এবং তা দ্বারা বাজার চাহিদা রেখা আঁকা যায়।

প্রশ্ন-৬. যোগান রেখা ডানদিকে ঊর্ধ্বগামী হয় কেন?

উত্তর : দ্রব্যের দামের সাথে যোগানের সমমুখী সম্পর্ক রয়েছে এবং এ সমমুখী ■ সম্পর্কের জন্যই যোগান রেখা বামদিক থেকে ডানদিকে ঊর্ধ্বগামী হয়। যোগান রেখা ডানদিকে ঊর্ধ্বগামী হওয়ার কারণ হলো— 

যোগান বিধি অনুসারে কোনো দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পেলে যোগান বৃদ্ধি পায় এবং মূল্য কমে গেলে যোগান কম হয়। যোগান বিধির এরূপ একমুখী সম্পর্কের জন্যে যোগান রেখা ডানদিকে ঊর্ধ্বগামী হয়।

প্রশ্ন-৭, ভোগ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : অর্থনীতিতে মানুষের অভাব পূরণের জন্য কোনো দ্রব্যের উপযোগ নিঃশেষ করাকে ভোগ বলে। আমরা প্রতিদিন নানা ধরনের পণ্য ভোগ করি। এখানে ভোগ - বলতে এগুলোর নিঃশেষ করাকে বোঝায় না, আমরা 

শুধু দ্রব্যগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে এর উপযোগ গ্রহণ করতে পারি। অভাব মোচন দ্বারা দ্রব্যের উপযোগ নিঃশেষ করা হলে তাকে ভোগ বলে।.

প্রশ্ন-৮, যোগান সুচি ও যোগান রেখার মধ্যে তফাৎ কী?

উত্তর : যোগান সুচি হলো যোগান বিধির গাণিতিক ছকবদ্ধ রূপ। আর যোগান রেখা হলো যোগান বিধির জ্যামিতিক রূপ। সাধারণত কোনো প্রব্যের দাম বাড়লে যোগানের পরিমাণ বাড়ে এবং দাম কমলে যোগানের পরিমাণ কমে। 

একে যোগান বিধি বলা হয়। যে সূচির মাধ্যমে যোগান বিধি দেখানো হয়, তাকে যোগান সূচি বলে। অন্যদিকে, জ্যামিতিকভাবে যে রেখার মাধ্যমে যোগান বিধি দেখানো হয়, তাকে যোগান রেখা বলে ।

প্রশ্ন-৯. ভারসাম্য দাম বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : যে দামে চাহিদা ও যোগান পরস্পর সমান হয় তাকে ভারসাম্য দাম বলে। বাজারে কোনো দ্রব্যেও ক্রয়-বিক্রয় ক্রেতা-বিক্রেতার দর-কষাকষি চলে। ক্রেতা সর্বোনিম্ন দামে কিনতে চায়। কিন্তু বিক্রেতা সর্বোচ্চ দামে তা বিক্রয়

 করতে আগ্রহী হয়। এরকম দর-কষাকষির ফলে এমন একটি দামে দ্রব্যটি কেনা-বেচা হয়, যেখানে মোট চাহিদা ও যোগান সমান হয়। আর এই দামই হলো ভারসাম্য দাম ।

প্রশ্ন-১০. চাহিদা বিধি ও যোগান বিধির মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর : চাহিদাবিধি ও যোগানবিধির মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। চাহিদাবিধি বলতে বোঝায় অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থেকে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে পণ্যের দাম কমলে তার চাহিদার পরিমাণ বাড়ে এবং দাম বাড়লে চাহিদার পরিমাণ, কমে। 

অপরদিকে যোগান বিধি বলতে বোঝায় অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে দাম বৃদ্ধি পেলে যোগানের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং দাম হ্রাস পেলে যোগানের পরিমাণ হ্রাস পায়। চাহিদা বিধি অনুযায়ী দেখা যায়, দামের সাথে চাহিদার সম্পর্ক

 বিপরীতমুখী। কিন্তু দাম ও যোগানের সম্পর্ক সমমুখী । চাহিদাবিধি ও যোগান বিধির মাঝে এসব পার্থক্যই বিদ্যমান।

প্রশ্ন-১১, চাহিদা বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।

 উত্তর : কোনোকিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে চাহিদা বলে। একজন ছাত্রের কলম কেনার আকাঙ্ক্ষা চাহিদা হবে। কিন্তু একজন ভিক্ষুকের গাড়ি কেনা কিংবা কৃপণ ব্যক্তির রসগোল্লা খাওয়ার সখ চাহিদা হবে না। কারণ ভিক্ষুকের গাড়ি 

কেনার সামর্থ্য নেই। অর্থনীতিতে চাহিদা হতে হলে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হয়। 

যেমন- ১. কোনো দ্রব্য পাওয়ার ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা, 

            ২. ক্রয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অধিক সামর্থ্য, 

            ৩. অর্থ ব্যয় করে দ্রব্যটি ক্রয়ের ইচ্ছা।

সুতরাং, ক্রেতার একটি পণ্য নির্দিষ্ট সময়ে কেনার আকাঙ্ক্ষা, সামর্থ্য এবং নির্দিষ্ট মূল্যে দ্রব্যটি ক্রয় করার ইচ্ছা থাকলে তাকে অর্থনীতিতে চাহিদা বা (Demand) বলে।

প্রশ্ন-১২. ভোগ ও ভোক্তা বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : অর্থনীতিতে মানুষের অভাব পূরণের জন্য কোনো দ্রব্যের উপযোগ গ্রহণ করাকে ভোগ বলা হয়। যেমন- আমরা ভাত, মাছ, কলম, ঘড়ি, জামা-কাপড় এগুলো ভোগ করি । এখানে ভোগ বলতে দ্রব্যগুলো নিঃশেষ করাকে

 বোঝায় না। বরং দ্রব্যগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে এর উপযোগ নিঃশেষ করাকে বোঝায়।

আবার, কোনো অবাধ সহজলভ্য দ্রব্য ছাড়া অন্য সব দ্রব্য ভোগ করার জন্য যে ব্যক্তি অর্থ ব্যয় করতে প্রস্তুত থাকে তাকে ভোক্তা বলা হয়। যেমন- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, গাড়ি, তরিতরকারি ইত্যাদির জন্য ব্যক্তিকে অর্থ ব্যয় করতে হয়। 

তাই এক্ষেত্রে ব্যক্তি হচ্ছে একজন ভোক্তা।

প্রশ্ন-১৩. ভোগ ও তৃপ্তির মধ্যে সম্পর্ক কী?

উত্তর : ভোগ ও তৃন্তির মধ্যে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক বিদ্যমান। কোনো দ্রব্য ভোগ ছাড়া তৃন্তি লাভের কথা কল্পনাই করা যায় না। সাধারণত ভোগ বলতে কোনো দ্রব্যের ধ্বংস বা বিনাশ করা বোঝায়। কিন্তু অর্থনীতিতে ভোগের অর্থ কোনো 

দ্রব্য ধ্বংস বা বিনাশ করা নয়। অর্থনীতিতে কোনো দ্রব্য ব্যবহারের মাধ্যমে তার উপযোগ লাভ করাকেই ভোগ বলা হয়। আর মানুষ যখন দ্রব্য ভোগ করে তখন তা থেকে তৃপ্তি পায়। কোনো দ্রব্যের উপযোগ নিঃশেষ করা হলে তা থেকেই 

মানসিক পরিতৃপ্তি আসে।

প্রশ্ন-১৪, প্রান্তিক উপযোগ রেখা নিম্নগামী হয় কেন?

উত্তর : অতিরিক্ত এক একক ভোগের জন্যে যে অতিরিক্ত উপযোগ সৃষ্টি হয় তাকে প্রান্তিক উপযোগ বলে। কোনো দ্রব্যের ভোগের পরিমাণ বাড়ার সাথে সাথে প্রান্তিক উপযোগ ক্রমান্বয়ে কমে। সে কারণেই প্রান্তিক উপযোগ রেখা নিম্নগামী

হয়ে থাকে।

প্রশ্ন-১৫, ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : ভোক্তা কোনো একটি দ্রব্য যত বেশি ভোগ করে তার কাছে ঐ দ্রব্যের প্রান্তিক উপযোগ তত কমে যেতে থাকে। ভোগের একক বৃদ্ধির ফলে প্রান্তিক উপযোগ কমে যাবার এ প্রবণতাকে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগ বিধি বলে। 

প্রশ্ন-১৬, দামের সাথে চাহিদার সম্পর্ক বর্ণনা দাও।

উত্তর : দাম ও চাহিদার আচরণ পর্যালোচনা করে বলা যায়, উভয়ের মধ্যে একটি বিপরীত সম্পর্ক রয়েছে। চাহিদা সূচিতে দেখা যায় দ্রব্যের দাম কমলে তার চাহিদা বাড়ে এবং দাম বাড়লে চাহিদা কমে। অর্থাৎ দাম ও চাহিদার মধ্যে 

বিপরীত সম্পর্ক বিদ্যমান।

প্রশ্ন-১৭. যোগান বিধিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : যে বিধি দামের সাথে দ্রব্যের যোগানের সম্পর্ক প্রকাশ করে তাকে যোগান বিধি বলে। এ বিধি অনুযায়ী অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থেকে কোনো দ্রব্যের দাম বাড়লে তাঁর যোগান বাড়ে এবং দাম কমলে যোগান কমে। 

অর্থাৎ দাম ও দ্রব্যের যোগানের মধ্যে সবসময় সরাসরি ও সমমুখী সম্পর্ক বিরাজ করে। 

প্রশ্ন-১৮, বাজার যোগান রেখা কীভাবে পাওয়া যায়?

উত্তর : কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি দ্রব্যের বিভিন্ন দামে বাজারের সব বিক্রেতা যে পরিমাণ দ্রব্য যোগান দেন তা বাজার যোগান। অন্যদিকে, কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি দ্রব্যের বিভিন্ন দামে বাজারের সব বিক্রেতা যে পরিমাণ দ্রব্য 

যোগান দেন তা একটি বাজার যোগান সূচিতে দেখানো যায়। সব বিক্রেতার ব্যক্তিগত যোগান সূচি যোগ করে বাজার যোগান সূচি তৈরি করা যায়। এই বাজার যোগান সূচি থেকে রেখাচিত্রের মাধ্যমে বাজার যোগান রেখা পাওয়া যায়।



ষষ্ঠ অধ্যায় : জাতীয় আয় ও এর পরিমাপ

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

১.মোট দেশজ উৎপাদন কাকে বলে? . 

উত্তর : কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত এক বছরে দেশের অভ্যন্তরে যে পরিমাণ চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবাকর্ম সৃষ্টি হয় তাকে মোট দেশজ উৎপাদন বলে।

২.নিট জাতীয় আয় কাকে বলে?

উত্তর : কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো অর্থনীতিতে চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবার আর্থিক মূল্য থেকে মূলধন ব্যবহারজনিত অবচয় বাদ দিলে যা থাকে তাকে নিট জাতীয় আয় বলে।

৩.মাথাপিছু আয় কী?

উত্তর :  মাথাপিছু আয় বলতে জনপ্রতি বার্ষিক আয়কে বোঝায় । 

৪.মাথাপিছু জিডিপি কী?

উত্তর : মাথাপিছু জিডিপি হচ্ছে জনপ্রতি বার্ষিক জিডিপি ।

৫. মাথাপিছু জিডিপি এর সূত্রটি লিখ।

উত্তর : মাথাপিছু জিডিপি =কোনো নির্দিষ্ট বছরে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ঐ বছরের মধ্য সময়ের মোট জনসংখ্যা

৬.. NNP এর পূর্ণরূপ কী?

উত্তর : NNP-এর পূর্ণরূপ হলো - Net National Product.

৭.GNI-এর পূর্ণরূপ লেখ ।

উত্তর : GNI-এর পূর্ণরূপ হলো Gross National Income.

৮. CCA-এর পূর্ণরূপ লেখ।

উত্তর : CCA-এর পূর্ণরূপ হলো- Capital Consumption Allowance.

৯. GDP এর পূর্ণরূপ ইংরেজিতে লিখ।

উত্তর : GDP এর পূর্ণরূপ হলো- Gross Domestic product.

১০. মোট জাতীয় আয় কী?

উত্তর : কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত এক অর্থ বছরে কোনো দেশের নাগরিকগণ কর্তৃক যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্যসামগ্রী ও সেবাকর্ম উৎপাদিত হয় তার বাজার মূল্যের সমষ্টিকে মোট জাতীয় আয় বলে।

১১. আয় পদ্ধতিতে জাতীয় আয় নির্ণয়ের সূত্রটি লেখ।

উত্তর : আয় পদ্ধতিতে জাতীয় আয় = মোট খাজনা + মোট মজুরি + মোট সুদ + মোট মুনাফা।

১২. কোনটি থেকে একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার মানের প্রধান সূচক পাওয়া যায়?

উত্তর : মাথাপিছু আয় থেকে একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার মানের প্রধান সূচক পাওয়া যায়।

১৩. উৎপাদন পদ্ধতি কী?

উত্তর : উৎপাদন পদ্ধতি অনুযায়ী কোনো দেশে উৎপাদিত সব পণ্য সামগ্রীর অর্থ মূল্য বা বিনিময় মূল্য হিসাবের মাধ্যমে জাতীয় আয় পরিমাপ করা হয়।

১৪- বাংলাদেশের জাতীয় আয় গণনার দায়িত্ব কোন প্রতিষ্ঠানের? 

উত্তর : বাংলাদেশে জাতীয় আয় গণনার দায়িত্ব বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর।

১৫. বাংলাদেশে কোন পদ্ধতি ব্যবহার করে জাতীয় আয় গণনা করে? 

উত্তর : বাংলাদেশে উৎপাদন পদ্ধতি ও ব্যয় পদ্ধতি ব্যবহার করে জাতীয় আয় গণনা করে।

১৬. কোনগুলোকে মোট দেশজ উৎপাদনের নির্ধারক বলা হয়?

উত্তর : ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ, শ্রম, মূলধন, প্রযুক্তি, সম্পদের সচলতা ইত্যাদিকে মোট দেশজ উৎপাদনের নির্ধারক বলা হয়।

১৭. নিট জাতীয় উৎপাদন কাকে বলে?

উত্তর : মোট জাতীয় উৎপাদন থেকে মূলধন সামগ্রীর ক্ষয়-ক্ষতির খরচ বাদ দিলে যা থাকে তাকে নিট জাতীয় উৎপাদন বলে।

১৮. নিট রপ্তানি কী?

উত্তর : মোট রপ্তানি থেকে মোট আমদানি বাদ দিলে যা পাওয়া যায় তাই নিট রপ্তানি।

১৯. নিট জাতীয় উৎপাদনের সূত্রটি কী?

উত্তর : নিট জাতীয় উৎপাদন = মোট জাতীয় উৎপাদন – ক্ষয়ক্ষতিজনিত খরচ। 

২০. বাংলাদেশে জাতীয় আয় গণনার দায়িত্ব কোন প্রতিষ্ঠানের?

উত্তর : বাংলাদেশে জাতীয় আয় গণনার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।

২১. প্রাথমিক পর্যায়ে কোনটিকে জাতীয় আয় গণনার সময় বিবেচনা করা হয় না? 

উত্তর : প্রাথমিক পর্যায়ে দ্রব্য ও সেবাকে জাতীয় আয় গণনার সময় বিবেচনা করা হয় না।

২২. ব্যয় পদ্ধতি কী?

উত্তর : এ পদ্ধতিতে মোট দেশজ উৎপাদন হলো কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সমাজের সব ধরনের ব্যয়ের যোগফল।


অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন-১. নিট জাতীয় আয় বলতে কী বুঝ?

অথবা, নিট জাতীয় উৎপাদন বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো অর্থনীতিতে চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবার আর্থিক মূল্য থেকে মূলধন ব্যবহারজনিত অবচয় ব্যয় (CCA) বাদ দিলে যা থাকে তাকে নিট জাতীয় উৎপাদন বলে। মূলধন ব্যবহারজনিত অবচয় 

ব্যয় বলতে উৎপাদন ব্যবস্থায় মূলধন ব্যবহারের জন্যে মূলধন ক্ষয়ক্ষতি হয়, তা রক্ষণাবেক্ষণ ও ক্ষতিপূরণ করার জন্যে যে ব্যয় বহন করতে হয় তাকে বুঝায় । 

প্রশ্ন-২. জিডিপি নির্ণয়ে কেন মাধ্যমিক দ্রব্যকে বিবেচনায় আনা হয় না? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : দ্বৈত গণনা সমস্যা পরিহার করার জন্য জিডিপি নির্ণয়ের মধ্যবর্তী দ্রব্য ও সেবা বাদ দেওয়া হয়।

জিডিপি নির্ণয়ে শুধু চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবা বিবেচিত হয়। কারণ চূড়ান্ত । দ্রব্যের মধ্যেই মাধ্যমিক পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবার মূল্য অন্তর্ভুক্ত থাকে। উদাহরণ- তুলা থেকে সুতা, সুতা থেকে কাপড় ও কাপড় থেকে শার্ট উৎপাদন করা হয়।

 এক্ষেত্রে শার্টের মধ্যেই তুলা, সুতা ও কাপড়ের মূল্য অন্তর্ভুক্ত থাকে। তাই জাতীয় আয় পরিমাপের সময় দ্বৈত গণনা সমস্যার ত্রুটি পরিহার করতে মাধ্যমিক দ্রব্য ও সেবা বাদ দেওয়া হয়।

প্রশ্ন-৩, উৎপাদনের উপকরণের সচলতা বলতে কী বোঝায়? 

উত্তর : একটি অর্থনীতিতে পিছিয়ে পড়া বা অবনতিশীল অর্থনৈতিক কার্যকলাপ থেকে সম্পদ সরিয়ে নতুন প্রসারণ অর্থনৈতিক কার্যকলাপে সম্পদ ব্যবহার করার ক্ষমতার উপর মোট দেশজ উৎপাদন নির্ভর করে।

 উদাহরণস্বরূপ বাংলাদেশে পাট চাষ কমিয়ে ধান, গম বা ভুট্টা চাষে ভূমি ও অন্যান্য উপকরণের ব্যবহার বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা যায়।

প্রশ্ন-৪, মোট দেশজ উৎপাদন বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : একটি নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত একটি অর্থ বছরে কোনো দেশের অভ্যন্তরে যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্যসামগ্রী ও সেবা উৎপাদিত হয় তার অর্থমূল্যের সমষ্টিকে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বলে। জিডিপি হিসাবের সময়

 দেশের অভ্যন্তরে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ দ্বারা উৎপাদিত সবরকম দ্রব্য ও `সেবাকর্মকে ধরা হয়। কিন্তু বিদেশে অবস্থানরত দেশীয় নাগরিকদের দ্বারা সৃষ্ট উৎপাদন বা আয় জিডিপির অন্তর্ভুক্ত হয় না।

প্রশ্ন-৫. মোট জাতীয় আয় ও নিট জাতীয় আয়ের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ কর।

 উত্তর : একটি নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত এক বছরে একটি দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে মোট যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন হয় তার বাজার মূল্যের সমষ্টিকে জাতীয় আয় বলে। পক্ষান্তরে, কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো

 অর্থনীতিতে চূড়ান্ত পর্যায় দ্রব্য ও সেবার আর্থিক মূল্য থেকে মূলধন ব্যবহারজনিত অবচয় বাদ দিলে যা থাকে তাকে নিট জাতীয় আয় বলে।

প্রশ্ন-৬. আয় পদ্ধতিতে কীভাবে জাতীয় আয় পরিমাপ করা হয়? ব্যাখ্যা কর।

 উত্তর : আয় পদ্ধতিতে জাতীয় আয় হলো উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত উপকরণসমূ হের প্রাপ্ত আয়ের সমষ্টি। উৎপাদন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত মৌলিক উপকরণ হচ্ছে ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন। এগুলোতে প্রাপ্ত আয় যথাক্রমে খাজনা,

 মজুরি, সুদ ও মুনাফা। সুতরাং এ পদ্ধতিতে এক বছরের মোট খাজনা, মোট মজুরি, মোট সুদ ও মোট মুনাফার যোগফলকে জাতীয় আয় বলা হয়। এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আয়ের মধ্যে যদি হস্তান্তর পাওনা অন্তর্ভুক্ত থাকে, তবে তা 

জাতীয় আয় পরিমাপ হতে বাদ দেওয়া হয় ।

প্রশ্ন-৭. জাতীয় ব্যয় পদ্ধতি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : এ পদ্ধতিতে জাতীয় ব্যয় হলো কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সমাজের সব ধরনের ব্যয়ের যোগফল। সমাজের মোট ব্যয় বলতে ব্যক্তি খাতের ভোগ ও বিনিয়োগ ব্যয় এবং সরকারি ব্যয় ও নিট রপ্তানিকে বোঝায়। 

অতএব, ভোগ + বিনিয়োগ + • সরকারি ব্যয় + নিট রপ্তানি (= রপ্তানি – আমদানি) = মোট দেশজ উৎপাদন। মোট দেশজ উৎপাদন বা Y = C + 1 + G (X - M) এখানে C = ভোগ, I = বিনিয়োগ, G = সরকারি ব্যয়,

 (X - M) (রপ্তানি – আমদানি) = নিট রপ্তানি। 

প্রশ্ন-৮. কখন দ্বিত্ব গণনা সমস্যা দেখা দেয়?

উত্তর : জাতীয় আয় গণনায় শুধু চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবা বিবেচিত হয়। কারণ চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্যের ভেতরেই মাধ্যমিক পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবার মূল্য অন্তর্ভুক্ত হয়। চূড়ান্ত দ্রব্যের পরে আবার মাধ্যমিক পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবা

 বিবেচনা করলে জাতীয় আয় গণনার ক্ষেত্রে দ্বিত্ব গণনা (Double Counting) সমস্যা দেখা দেয়। এ জন্য মাধ্যমিক পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবাকে জাতীয় আয় গণনার সময় বিবেচনা করা হয়।

প্রশ্ন-৯, CCA বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : CCA বলতে (Capital Consumption Allowance) মূলত মূলধনের খরচজনিত ব্যয়কে বুঝিয়ে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে মূলধন দ্রব্য ব্যবহারের ফলে এই মূলধন দ্রব্য বা যন্ত্রাংশের অবচয়জনিত যে ব্যয় হয়

 এই ব্যয়ের পরিমাণকেই (CCA) বা মূলধনের খরচজনিত অর্থ বলা হয়।

প্রশ্ন-১০. মাথাপিছু আয় কীভাবে নির্ণয় করা হয়?

উত্তর : কোনো দেশের লোকদের মাথাপিছু আয় নির্ণয় করতে হলে মোট জাতীয় উৎপাদন তথা মোট জাতীয় আয় কোনো বছরের মধ্য সময়ের মোট জনসংখ্যা জানা দরকার। দেশের মোট জাতীয় আয়কে মোট জনসংখ্যা জানা দরকার।

 দেশের মোট জাতীয় আয়কে মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করলে যে আয় পাওয়া মোট জাতীয় আয়

যায় তাকে মাথাপিছু আয় বলে। অর্থাৎ মাথাপিছু আয় = • মোট জনসংখ্যা

প্রশ্ন-১১, মাথাপিছু GDP একটি দেশের উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার মানের প্রধান সূচক- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : মাথাপিছু আয় দ্বারা কোনো দেশ উন্নত নাকি অনুন্নত তা সহজেই পরিমাপ করা যায়। যদি মাথাপিছু আয় বেশি হয় তবে বুঝতে হবে দেশকি উন্নত, আবার যদি মাথাপিছু আয় কম হয় তবে বুঝতে হবে দেশটি উন্নয়নশীল বা অনুন্নত।

এ কারণে বলা হয়, মাথাপিছু আয় হলো একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার মানের প্রধান সূচক।

প্রশ্ন-১২. GDP পরিমাপের দুটি নির্ধারক বর্ণনা কর।

উত্তর : দক্ষ ও কর্মক্ষম শ্রম মোট দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধির সহায়ক। শ্রমিক যদি প্রযুক্তির ব্যবহার জানে এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয় তবে মোট দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব।

আজকের উন্নত দেশসমূহ মোট দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধির মূলে রয়েছে মূলধনের ভূমিকা। আবার অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ মূলধনের অভাবের কারণে মোট জাতীয় আয় ও মোট দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারে না। 

সুতরাং, মূলধন মোট দেশজ উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক।

প্রশ্ন-১৩. সরকারি ঋণের সুদ জিডিপি থেকে কেন বাদ দেওয়া হয়?

উত্তর : সরকারি ঋণের বিপরীতে যে সুদ দেয়া হয় তা GDP এর অন্তর্ভুক্ত নয়। যেমন- যুদ্ধকালীন সরকার যে ঋণ করে তা জাতীয় উৎপাদনে কোনো ভূমিকা থাকে না। এজন্যে GDP থেকে বাদ দেয়া হয়।

প্রশ্ন-১৪. GDP পরিমাপে হিসাব বহির্ভূত একটি বিষয় বর্ণনা কর।

উত্তর : বেআইনি কাজ: বেআইনি কাজ থেকে প্রাপ্ত আয় জাতীয় আয় গণনার ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয় না। বেআইনি কার্যকলাপ বলতে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং দেশের প্রচলিত আইনের বিরোধী কাজকে বুঝায়।

 যেমন— মাদকদ্রব্য, জুয়াখেলা, কালোবাজারে দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়, ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত আয়, রক্ত বিক্রি ইত্যাদি কাজের ফলে সৃষ্ট মূল্য জাতীয় উৎপাদন গণনার সময় বিবেচনা করা হয় না।




নবম অধ্যায় : বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রসঙ্গ

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

১.অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কাকে বলে?

উত্তর : অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বলতে একটি দেশের দ্রব্য ও সেবা উৎপাদনের পরিমাণগত বৃদ্ধিকে বোঝায়।

২. বেকারত্ব কাকে বলে?

উত্তর : কাজ করতে সক্ষম ব্যক্তি প্রচলিত মজুরিতে কাজ করতে ইচ্ছুক কিন্তু কাজ পায় না এ অবস্থাকেই বেকারত্ব বলে।

৩. SPM - এর পূর্ণরূপ কী?

উত্তর : SPM-এর পূর্ণরূপ হলো Single Point Mooring. 

৪.উন্নয়নশীল দেশ কী?

উত্তর : যেসব দেশের মাথাপিছু প্রকৃত আয় উন্নত দেশের তুলনায় কম কিন্তু উন্নয়নের সূচকগুলোর ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটছে তাকে উন্নয়নশীল দেশ বলে।

৫. দারিদ্র্যা কাকে বলে?

উত্তর : যে দেশের জনগণ পরিবর্তিত পার্শ্বপরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য বিধানে সক্ষম নয়, প্রতিকূল প্রকৃতি যেমন বন্যা, খরা, সম্পদের অপ্রতুলতা এবং অসম বণ্টন ও অসম উপার্জনের শিকার হয় সে অবস্থাই হলো দারিদ্র্য। 

৬.বাংলাদেশের কত ভাগ লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে?

উত্তর : বাংলাদেশের প্রায় ২৪ ভাগ লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। 

৭. বাংলাদেশে কাদেরকে দরিদ্র বলা হয়?,

উত্তর : বাংলাদেশে আমরা তাদেরকেই দরিদ্র বলি, যারা বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালরি ও ন্যূনতম প্রয়োজনীয় উপকরণটুকু যোগাড় করতে পারে না।

৮.বাজেট কী?

উত্তর : একটি নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত এক বছরের সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় ও আয়ের বিস্তারিত হিসাবের বিবরণকে বাজেট বলে।

৮.ফার্ম কী?

উত্তর : একটি নির্দিষ্ট পণ্যের উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানকে ফার্ম বলে।

১০. মৌসুমি বেকারত্ব কী?

উত্তর : বছরের যে সময় কৃষি শ্রমিক বা গ্রামীণ শ্রমিক কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে সে সময়ের জন্য ঐ শ্রমিককে মৌসুমি বেকারু বলে।

১১.মানবসম্পদ কাকে বলে?

উত্তর : জনসংখ্যার যে অংশ শিক্ষা ও দক্ষতার ভিত্তিতে শ্রমশক্তিতে পরিণত হয় তাকে মানবসম্পদ বলে।

১২.অর্থনৈতিক উন্নয়ন কী?

উত্তর : অর্থনীতির সামগ্রিক পরিবর্তনের মাধ্যমে জনগণের মাথাপিছু আয়ের ক্রমাগত বৃদ্ধিকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বলা হয়।

১৩. কীভাবে মূলধন গঠিত হয়?

উত্তর : সঞ্জয় বৃদ্ধির দ্বারা মূলধন গঠিত হয়।

১৪. বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি ক্ষুদ্র ঋণদানকারী সংস্থার নাম কী? 

উত্তর : বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি ক্ষুদ্র ঋণদানকারী সংস্থা হলো ব্র্যাক। 

১৫. 'দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র' ধারণার প্রবক্তা কে?

উত্তর : 'দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র' ধারণাটির প্রবক্তা হলেন অধ্যাপক র‍্যাগনার মার্কস (Ragner Narkes)।

১৬. অননত দেশ কী?

উত্তর : যেসব দেশে যত্ন মাথাপিছু আয়, জীবনযাত্রার মান নিম্ন, অধিকাংশ

লোক কৃষি পেশায় নিয়োজিত, উচ্চ হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও বেকারত্ব রয়েছে, সেসব দেশকে অনুন্নত দেশ বলে।

১৭. কাকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু বলা হয়?

উত্তর : উদ্যোক্তাকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু বলা হয়। 

১৮. ব্ল্যাক কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

উত্তর : ব্র্যাক ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯. কখন এনজিওদের কার্যক্রমের ব্যাপ্তি ও গতি লাভ করে?

উত্তর : প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় এনজিওদের কার্যক্রমের ব্যাপ্তি ও গতি লাভ করে।

২০. এসএসএস-এর লক্ষ্য কী?

উত্তর : সমাজের দরিদ্র, অবহেলিত ও অধিকার বঞ্চিত নারী-পুরুষ ও শিশুদের দারিদ্র্য বিমোচন, অধিকার আদায় ও তাদের শিক্ষা-স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন করা এসএসএস-এর প্রধান লক্ষ্য। 

২১. সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কী?

উত্তর : নারী, শিশু, প্রতিবন্ধীসহ সকল সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে যে সমস্ত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় তাদেরকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী বলে।

২২. ২০১০ সালের আয়-ব্যয় জরিপ মতে, বাংলাদেশের দারিদ্র্যের হার কত? 

উত্তর : ২০১০ সালের আয়-ব্যয় জরিপ মতে, বাংলাদেশের দারিদ্র্যের হার ছিল ২৪.৩ শতাংশ।


অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন-১, অর্থনৈতিক উন্নয়ন বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : অর্থনৈতিক উন্নয়ন বলতে এমন একটি চলমান গতিধারাকে বোঝায়, যা কতকগুলো শক্তির সংযোগ, যার ফলে জনগণের আয় ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়। শক্তিসমূহ হচ্ছে- উৎপাদন, জাতীয় আয়, ভোগ, বিনিয়োগ, নিয়োগ, 

জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি প্রভৃতি। অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলে বুঝতে হবে প্রবৃদ্ধির সাথে অর্থনৈতিক অবস্থার গুণগত পরিবর্তন হয়েছে ৷

প্রশ্ন-২. আমাদের দেশকে উন্নয়নশীল দেশ বলা হয় কেন? 

উত্তর : আমাদের দেশকে উন্নয়নশীল দেশ বলা হয়; কারণ উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর, মাথাপিছু আয় উন্নত দেশের তুলনায় কম, মূলধনের স্বল্পতা, বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতি, বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীলতা 

ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতির কারণে আমাদের দেশকে উন্নয়নশীল দেশ বলা হয়। এসব দেশের যথেষ্ট উন্নয়নের সম্ভাবনা রয়েছে। 

প্রশ্ন-৩. সাময়িক বেকারত্ব বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : পেশা পরিবর্তনের সময়ে যে বেকারত্ব তৈরি হয়, তাকে সাময়িক বেকারত্ব বলা হয়। যেমন: একজন গার্মেন্টস শ্রমিক পেশা পরিবর্তন করে ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করে। এ সময় যে কয় দিন সে কর্মহীন থাকে, এ সময়কালটা

 সাময়িক বেকারত্ব বলে গণ্য হয়। আমাদের দেশে এ ধরনের বেকারত্ব লক্ষ করা যায়। 

প্রশ্ন-৪, মৌসুমি বেকারত্ব বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : প্রাকৃতিক কারণে বছরের কোনো বিশেষ বিশেষ সময়ে মৌসুমি বেকারত্ব হয় । যেমন— ফসল বপন ও কর্তনের সময় ব্যতীত অন্যান্য সময়ে গ্রামীণ শ্রমিকের কোনো কাজ থাকে না। অর্থাৎ বছরের যে সময় কৃষি শ্রমিক 

বা গ্রামীণ শ্রমিক কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় সে সময়ের জন্যে ঐ শ্রমিককে মৌসুমি বেকার বলে । 

প্রশ্ন-৫. দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বলতে কী বোঝায়? 

উত্তর : অধ্যাপক র‍্যাগনার নার্কস কর্তৃক প্রবর্তিত দারিদ্র্যের কারণসমূহের আন্তঃসম্পর্ক বিষয়ক চক্রকে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বলে। তার মতে, একটি দেশ গরিব, কারণ সে দেশটি দরিদ্র। কম উৎপাদন, কম আয়, চাহিদা ও সঞ্জয় কম,

 ফলে বিনিয়োগ ও মূলধন কম হয়। এই কম মূলধন আবার কম উৎপাদনের জন্য দায়ী । এভাবে একটি চক্রাকারে 'কম' বিষয়গুলোর কারণে দেশটি দরিদ্র হয়ে যায় ।

প্রশ্ন-৬. দারিদ্র্য বিমোচনে আইসিটির (ICT) ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশের সকল মানুষের জীবন, সহজ, সুন্দর ও আনন্দময় করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বেকার যুবক-যুবতীদের আইসিটি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান

 সৃষ্টি করে দারিদ্র্য দূরীকরণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে এখন কর্মক্ষেত্রে আইসিটির বহুমুখী প্রভাব ও ব্যবহার লক্ষ করা যায়। আইসিটি নিজেই নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করছে। হার্ডওয়্যার সফটওয়্যার থেকে শুরু করে

 ওয়েবসাইট নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি এখন নতুন দক্ষ কর্মীদের জন্য একটি বিরাট কর্মক্ষেত্র। আউটসোর্সিং করে এখন অনেকেই বাংলাদেশের জন্য মূল্যবান বৈদেশিক অর্জন করছে। তাই বলা যায়, দারিদ্র্য বিমোচনে আইসিটির

 ভূমিকা অপরিসীম।

প্রশ্ন-৭. মূল্য সংযোজন কর বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : উৎপাদনের বিভিন্ন স্তর বা চূড়ান্ত দ্রব্যের মূল্যের ওপর একটি নির্দিষ্ট হারে কর আরোপ করা হয়ে থাকে। মূল্যের ওপর আরোপিত এ করকেই মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট বলে। বাংলাদেশে ১৯৯১-৯২ অর্থবছর থেকে আমদানিকৃত 

দ্রব্য ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত দ্রব্যমূল্য এবং বিভিন্ন সেবা খাতের ওপর সংযোজন কর চালু করেছে।

প্রশ্ন-৮, বাংলাদেশ কীভাবে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আবদ্ধ?

উত্তর : অধ্যাপক নার্কস-এর মতে, একটি দেশ গরিব কারণ সে দেশ দরিদ্র। বাংলাদেশে কম উৎপাদনের ফলে আয়ও কম হয়। আয় কম হলে সঞ্চয় কম হয়। সঞ্চয় কম হওয়ায় বিনিয়োগও কম হয়। মূলধনও কম হয়। ফলে উৎপাদনও

 কম হয়। এ অবস্থাকে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বলে। এভাবে বাংলাদেশ দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আবদ্ধ।

প্রশ্ন-৯. 'কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি' ব্যাখ্যা কর ।

উত্তর : 'কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি' সরকারের দারিদ্র্য বিমোচনের একটি 'পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে বেকার গরিব সম্প্রদায়কে উন্নয়নশীল কাজে নিয়োজিত করা হয় এবং কাজের পরিবর্তে তাদের খাদ্য প্রদান করা হয়। খাদ্য ও

 দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়াধীন এ কর্মসূচির আওতায় ২০১০-১২ অর্থবছরে ৩.৭১ লক্ষ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ করা হয়।

প্রশ্ন-১০. ব্র্যাকের উদ্দেশ্য বর্ণনা কর। *

উত্তর : ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি ক্ষুদ্র ঋণদানকারী সংস্থা হলো ব্র্যাক (বাংলাদেশ রুরাল এডভান্সমেন্ট কমিটি)। দরিদ্র মানুষের ক্ষমতায়নের জন্য বিশেষত মহিলা ও মেয়েদের জন্য সংস্থাটি দেশের ৭০ 

হাজার গ্রাম এবং ২০০০ বস্তিতে কাজ করে থাকে। সংস্থাটি দেশের কর্মসূচি ছাড়াও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, অতি দরিদ্র, চরবাসী, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে। ক্ষুদ্র ঋণের সুবিধাভোগী ৮০,৫৪,৪১৫

 জনের মধ্যে মহিলার সংখ্যা ৭৬,১৪,৩২৬ জন।

প্রশ্ন-১১. বাংলাদেশের যে কোনো দুটি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বর্ণনা দাও। 

উত্তর : নারী, শিশু, প্রতিবন্ধিসহ সকল সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে তাদের উদ্দেশ্যে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বংলাদেশের দুটি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বর্ণনা নিচে 

দেওয়া হলো- ১. নগদ অর্থ সহায়তা কার্যক্রম (বিশেষ): বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কিছু বিশেষ নগদ অর্থ সহায়তা কার্যক্রম চালু আছে। এসিডদগ্ধ ও শারীরিক প্রতিবন্ধিদের পুনর্বাসনের জন্য ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম,

 অসচ্ছ্বল প্রতিবন্ধিদের জন্য ভাতা ইত্যাদি এ ধরনের কার্যক্রম।. আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম: বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র ঋণ সরবরাহের 

ব্যবস্থাও করা হয়েছে এ কার্যক্রমের আওতায় । 

প্রশ্ন-১২, অনুন্নত দেশে প্রতিকূল বাণিজ্য বিরাজ করে কেন?

উত্তর : অনুন্নত দেশগুলো শিল্পে উন্নত না থাকায় এসব দেশ কৃষিজাত পণ্য, কাঁচামাল, প্রাথমিক পণ্য রপ্তানি করে এবং শিল্পজাত পণ্য আমদানি করে। যেসব কৃষিপণ্য উপকরণ হিসাবে কম মূল্যে বিদেশে রপ্তানি করে, সেই কৃষিপণ্য

 শিল্প পণ্যে রূপান্তরিত হয়ে অধিক মূল্যে এসব দেশ আমদানি করা হয়। ফলে বাণিজ্যে ভারসাম্য প্রতিকূল অবস্থা বিরাজ করে।

প্রশ্ন-১৩, অনুন্নত দেশে বাণিজ্যের ভারসাম্য নষ্ট হয় কেন?

উত্তর : অনুন্নত দেশগুলো শিল্পে উন্নত না থাকায় এসব দেশ কৃষিজাত পণ্য, কাঁচামাল, প্রাথমিক পণ্য রপ্তানি করে। অন্যদিকে, শিল্পজাত পণ্য আমদানি করে। কৃষিপণ্য উপকরণ হিসাবে বিদেশে কম মূল্যে রপ্তানি করে। সেই কৃষিপণ্য

 শিল্প পণ্যে রূপান্তরিত হয়ে অধিক মূল্যে এসব দেশ আবার আমদানি করে। ফলে অনুন্নত দেশে বাণিজ্যে ভারসাম্য নষ্ট হয়।

প্রশ্ন-১৪ ব্যুরো বাংলাদেশের কার্যক্রম ব্যাখা কর।

উত্তর : ব্যুরো বাংলাদেশ হলো একটি বেসরকারি সেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান (এনজিও) যা দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে কাজ করে।

এই সানি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অবস্থার উন্নয়নের জন্য টেকসই গ্রামীণ সঞ্জয় ও ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি গ্রামীণ দরিদ্র ও অসেচতন চা, প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা, নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন, পানি- পয়োনিষ্কাশন,

 পরিবার-পরিকল্পনা, সামাজিক বনায়ন ও বৃক্ষরোপণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ বহুবিধ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

প্রশ্ন-১৫, অনুন্নত কৃষিব্যবস্থা বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : কৃষি ক্ষেত্রে পুরোনো বা মান্ধাতার আমলের পদ্ধতিতে চাষাবাদ করাকে অনুন্নত কৃষিব্যবস্থা বলে। বাংলাদেশের কৃষিব্যবস্থা অনুন্নত। কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সীমিত। কৃষি পণ্যের মূল্য অস্থিতিশীল। দেশের অধিকাংশ 

মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের জন্য কৃষি উপর নির্ভরশীল। কৃষিক্ষেপে পুরোনো আমলের জীবন নির্বাহী ক্ষুদ্র খামারে চাষাবাদ হয়। এসবকেই অনুন্নত কৃষিব্যবস্থা বলে ।

প্রশ্ন-১৬. অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন কেন? 

উত্তর : রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্যতম শর্ত। যে রাষ্ট্রে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নেই সে রাষ্ট্রে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। উন্নত দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিদ্যমান থাকায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার 

মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্পন্ন হয়। এজন্য অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন ।

প্রশ্ন-১৭. মানবসম্পদ উন্নয়নে কর্মমুখী শিক্ষার ভূমিকা লেখ ।

উত্তর : জনসংখ্যাকে কর্মক্ষম ও দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে হলে কর্মমুখী শিক্ষার সম্প্রসারণ প্রয়োজন। শিক্ষা ব্যক্তিজীবন এবং জাতীয় উন্নয়নের জন্যে অপরিহার্য। সুতরাং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন করে সকলের 

জন্য কর্মমুখী শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনেট আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url